শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৩:৩৭,২ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে বাস ভাড়া ও হাফ পাশ নিয়ে ৭ ছাত্র সংগঠনের আল্টিমেটাম
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে অতিরিক্ত বাস ভাড়া প্রত্যাহার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালুর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সাতটি ছাত্র সংগঠনের জোট ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’। আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ এবং সাশ্রয়ী হাফ পাস চালুর দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ৬ অক্টোবর থেকে নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের নেতারা। জোটভুক্ত সংগঠনগুলো হলো: বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহন ৫৫ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া আদায় শুরু করে। বিআরটিএর নির্ধারিত হার ও দূরত্বের হিসাব অনুযায়ী ফ্লাইওভারের টোলসহ এই রুটে ভাড়া কোনোভাবেই ৫৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। ভাড়া কমানোর দাবি তোলার পর মালিকপক্ষ বাস বন্ধ রেখে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া অবিলম্বে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা কার্যকর করার জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো সময় পরিচয়পত্র দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়ায় যাতায়াত এবং নিঃশর্ত হাফ পাস চালুর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বাস ও কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার নোটিশ টাঙানো, যাত্রীদের রসিদ প্রদান এবং ভাড়া নির্ধারণে খরচ ও টোলের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়। পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিআরটিসি বাস ও রেলপথে ট্রেনের বগির সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও তোলেন নেতারা।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৪ অক্টোবর শহরে বিক্ষোভ মিছিল, ৫ অক্টোবর গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং ৬ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধ পালন করবে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, বেসরকারি পরিবহন মালিকদের সুবিধা দিতে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে বিআরটিসি বাস সার্ভিস সীমিত এবং ট্রেনের বগি কমিয়ে রাখা হয়েছে। চাঁদাবাজির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তাঁরা বলেন, বাস মালিকেরা চাঁদা দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও বাস্তবে তাঁরাই ‘মাফিয়াতন্ত্র ও সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলে যাত্রীদের পকেট কাটছেন। দলীয় মতপার্থক্য ভুলে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে নেতারা জানান, ছাত্রদলের স্থানীয় একটি অংশ বিপক্ষে অবস্থান নিলেও প্রগতিশীল ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মৌমিতা নূর, জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, জেলা আহ্বায়ক মাহফুজ খান, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের জেলা সম্পাদক কামরুল হাসান মিরাজ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সিয়াম, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের জেলা আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সংগঠক মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।