শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:১২:৫০,২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমান
অনেক ক্ষেত্রেই দন্ডমুন্ডের হর্তাকর্তা ছিলেন আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমান। দুই চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাইয়ের পাড়া মহল্লায় আলাদা আলাদা বাহিনী ছিলো। বাহিনীর অনেকের কর্মকান্ডে এলাকায় সমালোচনা থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না। ২০২৪ এর ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহূর্তেই বদলে যায় সব। এখন আজমেরী কিংবা অয়ন বাহিনী না থাকলেও পাড়া মহল্লা ভরে গেছে অসংখ্য পদধারী ও পদহীন নেতাকর্মী এবং নানা নামের বাহিনী। যারা অয়ন ও আজমেরী ওসমানকে সমালোচনা করতেন তারাই এখন কেউ কেউ নিজেকে আজমেরী ওসমান কিংবা অয়ন ওসমান ভাবতে শুরু করেছেন। এ নিয়ে বিব্রত বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। সচেতন মহল বলছেন, কোন রকম লাগাম না থাকায় বেপরোয়া হয়ে গেছে নেতা-পাতি নেতাদের বাহিনীর লোকেরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলী এলাকায় ভিন্ন ভিন্নভাবে আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমানের বড় বড় ছবি টানিয়ে রাখতো কেউ। ফেস্টুনে তাদের ছবি দিয়ে নিজের ছবি সেটে নিজেকে ক্ষমতাবান হিসেবে উপস্থাপন করতো। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যেতো কেউ কেউ নিজের বাড়ির সামনেই হয় আজমেরী ওসমান নয়তো অয়ন ওসমানের বিশাল সাইজের ছবি ঝুলিয়ে রেখেছে। এতে তারা কার লোক মানুষ সহজেই অনুমান করে নিতো। আর এ পরিচয় দিয়েই মহল্লায় প্রভাব সৃষ্টি করে ইট-বালু থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, ঝুট, চোরাই তেল বাণিজ্যে মেতে উঠতো তারা। পট পরিবর্তনের পর এখন তাদের ছবির জায়গায় দখল করে নিয়ে বিএনপি কিংবা অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতার ছবি। তবে কর্মকান্ডে কোন পরিবর্তন হয়নি বলে জানা গেছে।
সু শাসনের জন্য নাগরিক-সুজন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল এর মতে, এক শ্রেনীর মানুষ শক্তির পূজা করে। নিজেকে বিশেষ সাজে সজ্জিত করে মানুষের কাছে উপস্থাপন করে যাতে মানুষ ভয় পায়। এটা হলো এক ধরনের ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’।
জুয়েল বলেন, কিশোর গ্যাং-সন্ত্রাসী রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায় লালিত হয়। তারা পোশাক বদল করে এ দল থেকে ও দলে যায়। আমি মনে করি যারা এমন গ্যাং সংস্কৃতি লালন পালন করে তাদের বিচার হওয়া উচিত। সেই সাথে এ গ্যাং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সামজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলেন সুজন সভাপতি।
বিএনপির দুঃসময়ে রাজনীতির মাঠে সরব ছিলেন এমন অনেক নেতা এসব কর্মকান্ড দেখে এখন বিব্রত। তাদের মতে, যারা এসব অপকর্ম করছে তারা নিজেরা লাভবান হতে তা করছে। তাদের কারনে দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে সে ভাবনা তাদের নেই। আর যারা তাদের লালন পালন করছে তারা টাকা কামাই করতে ব্যস্ত। কে দলের জন্য ভালো কে মন্দ সে ভাবনা ভাবার সময় নেই। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত কেউ কেউ আজমেরী ওসমান কিংবা অয়ন ওসমানের পোশাক, চলাফেরা, গ্রুপ করা অনুসরণ করছে। অফিস খুলে নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করছে। কেউ গাড়ির বহর দিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এসব দেখে সাধারন মানুষ ভয় পেলেও আড়ালে সমালোচনা করছে।
এ নিয়ে কথা হয় দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাসুম এর সঙ্গে। তার মতে, একটা হলো আলোর জগত আরেকটা অন্ধকার জগত। ওসমান পরিবার সব সময়েই অন্ধকার জগতের রাজনীতিতে যুক্ত। তার ১৭ বছরে এত টাকা কামাই করেছে যে এখন ক্ষমতাসীন দলের অনেকের সাথে যোগসাজসে গ্যাং সংস্কৃতি সহ অপকর্মের পেছনে টাকা ঢালছে।
বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলনে জড়িত মাহবুবুর রহমান মাসুম মনে করেন, এসব রোধ করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। কিশোর গ্যাং-মাদকের উপরে অভিযান আরও তীব্রতর করতে হবে। কারা আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় গোয়েন্দা নজরদারি করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
অনেক সজ্জন রাজনীতিকের মতে, রাজনীতিতে যখন টাকা কামাই করার বিষয় থাকবে না তখন এসব অপরাধীরা রাজনীতির ধারে কাছেও ভিড়বে না। সচেতন মহলের মতে, যে যখন ক্ষমতায় থাকে সে দলের অনেকে মনে করে সব কিছুতে তাদের ভাগ থাকতে হবে। তারা অন্য কোন কাজ-ব্যবসা করবে না শুধু দলীয় পরিচয় ভাঙ্গিয়ে মানুষকে যন্ত্রনা দিয়ে নিজেদের পকেট ভরবে।