শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:২০:১৬,২৬ অক্টোবর ২০২৬
.
বিএনপির গত আমলে র্যাবের কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয় নারায়ণগঞ্জের যুবদল নেতা মমিন উল্লাহ ডেভিড। তার স্বজন ও সঙ্গীদের মধ্যে অনেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে এখনও যুক্ত আছেন। তারা মৃত্যুবার্ষিকী এলে তার নামে দোয়া পড়ান। তবে দুনিয়া থেকে ডেভিডের প্রস্থানের ঘটনায় কার হাত ছিলো তা সাহস করে এখনও বলে না।
তরুণ বয়সে ভালো ক্রিকেটার থাকলেও যুবক বয়সে সম্মুখ বন্দুক যুদ্ধে তিনি দুর্ধর্ষ ফাইটার ছিলেন। এরশাদের আমলে চাষাঢ়ায় জোড়া খুনের পর জাতীয় ছাত্র সমাজ থেকে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯১ তে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি হয়ে উঠেন প্রভাবশালী নেতাদের হাতিয়ার। এ সময়ে চাষাঢ়া ও মিশনপাড়া এলাকার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বন্দুক যুদ্ধ হতো। চাষাঢ়ার পক্ষে থাকতো আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীরা আর মিশনপাড়া গ্রুপের শীর্ষ ফাইটার ছিলো ডেভিড। ওই সময়েই তিনি দলীয় প্রভাবে টেন্ডার, চাঁদাবাজি, সন্তাসী কর্মকান্ড করে আলোচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে ডেভিড আরও ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন। তখন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমপি ছিলেন আবুল কালাম, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, তিনে অধ্যাপক রেজাউল করিম, দুইয়ে আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে আব্দুল মতিন চৌধুরী। দলীয় সূত্র জানা গেছে, ‘৯১ তে মতিন চৌধুরীর আশ্রয়ে ডেভিডের উত্থান হলেও ২০০১ এ মতিন চৌধুরীর নিজের অবস্থানও কিছুটা পরিবর্তন হয়।
শহর-বন্দরের এমপি আবুল কালাম বরাবরই চুপচাপ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই তিনি কখনও তেমন ঝামেলায় নিজেকে জড়াননি। শহরের পাশের আসনে গিয়াস উদ্দিন আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেয়ায় তাকে অনেকেই মানতে পারছিলেন না। ঝানু এ রাজনীতিকও তাদের পাত্তা না দিয়ে নিজের বলয় তৈরী করেন। সোনারগাঁয়ের এমপি রেজাউল করিমকে তখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়। তিনি তখন জেলার প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার সাথে অন্যরা সুসম্পর্ক রাখতেন। আঙ্গুর ব্যস্ত ছিলেন নিজের এলাকা নিয়েই।
২০০৪ সালের ২৪ নভেম্বর ড্রেজারে টেন্ডার জমা দিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে মালিবাগ এলাকায় র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন ডেভিড। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তখন গণমাধ্যমের সংবাদে জানা গিয়েছিলো, ডেভিড যে গাড়িতে ছিলেন সে গাড়িতে এক সুন্দরী নারী ছিলেন। মালিবাগ র্যাব সিগন্যাল দিলে গাড়ি থামায় ডেভিড। পরে সড়কে তার মরদেহ পড়ে থাকলেও সে নারীর সন্ধান আর মেলেনি।
তার এমন মৃত্যুর পর অনেকেই একজন এমপিকে দোষারোপ করতেন। ডেভিড পরিবার ও স্বজনরাও দোষারোপ করতেন। এমনকি জনরোষে পড়তে হতে পারে তাই ওই এমপি ডেভিডের জানাযায় আসেননি। বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত এমন কয়েকজন নেতাও ডেভিডের করুণ অধ্যায়ের পেছনে কার হাত ছিলো তা বলাবলি করেন।
কেউ কেউ বলেন, টেন্ডার নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই তার উপর ক্ষ্যাপা ছিলেন কতিপয় এমপি ও নেতা। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ডেভিড কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে বেয়াদবি করেছেন। সে সময়ে ক্লিন হার্ট অপারেশন চালিয়েছিলো বিএনপি। ডেভিডের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও ছিলো। আর এসব কারনে সুযোগ বুঝে ডেভিডকে পরপারে পাঠিয়ে দেয়ার সুযোগ পায় তারা।
এদিকে র্যাবের হাতে রিয়াদ চৌধুরীর পিস্তলসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন একজন ফটো সাংবাদিক। সেখানে একজন এমপির কথা উঠে এসেছে। এরপর অনেকেই জানতে চেয়েছে, ডেভিডের ঘটনায় কী কোন স্ট্যাটাস দিবে কেউ।