শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:২০:৩১,২১ অক্টোবর ২০২৬
.
যুবক বয়সে বেশ সুদর্শন ছিলেন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলু। মাথায় হ্যাট পড়ে ভেসপায় করে শহরে যখন চলতেন তখন অনেকেই তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। পরিচয়টাও সবাই জানতেন, তিনি মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে খোকা মহিউদ্দিনের ছেলে। তার বাবা রাজনীতিক ছিলেন, ছিলেন ব্যবসায়ী। চলচ্চিত্র প্রযোজনা ছাড়াও শহরের গুলশান সিনেমা হলের মালিক ছিলেন।
লাভলুর এ পরিচয় বদলে যায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। শামীম ওসমানের ছেলের সাথে বিয়ের পর তাকে হয় অয়ন ওসমানের শ্বশুর কিংবা শামীম ওসমানের বেয়াই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতো সবাই। তিনিও এ পরিচয়ে আমোদ পেতেন।
একদা পারিবারিকভাবে লাভলুদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকলেও একটা সময়ে তাতে মন্দা দেখা দেয়। সূত্র জানায়, মন্দার পরিমাণ এতটাই ছিলো যে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হতো। মেয়ের বিয়ের আগে থেকে তার স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন। তার চিকিৎসা খরচ যোগাতে বেশ কষ্ট হতো তার। এক সময়ে যিনি নিজে ড্রাইভিং করে জীপ-মোটরসাইকেল হাকিয়ে শহরে চলতেন। পরে তাকে দেখা গেছে রিকশায় করে চলাফেরা করতে।
এতসব অভাবের মধ্যে প্রভাবশালী শামীম ওসমানের ছেলের বিয়ের প্রস্তাব তিনি ফেরাতে পারেননি। বরং ধুমধাম করে এ বিয়ে হয়। বিয়ের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান দেখে মানুষ তখন চমকে যায়। শামীম ওসমান তার ছেলে অয়ন ওসমানের বিয়ে দুই হাত খুলে খরচ করেছেন। লাক্সারী রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে রঙ খেলা থেকে শুরু করে নাচ, গান সবই হয়েছে আলোচিত সেই বিয়েতে। যার ভিডিও দেখে নানা জন নানা কথা বলেছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়েতে এমপির ছেলের বউ যে মোটা অংকের সালামী পেয়েছিলেন তা কায়দা করে তাকেই খরচ করতে দেন লিপি ওসমান। তিনি বলেছিলেন‘ বউ মা এ টাকা সব তোমার। তুমি যেভাবে খরচ করতে চাও করো।’ পরে সেই টাকা লাভলুর স্ত্রীর চিকিৎসা কাজে ব্যয় হয় বলে জানা গেছে।
মেয়েকে এমপির ঘরে দেয়ার পরই বদলে যায় লাভলুর ভাগ্য। অনেকের কাছে তিনি হয়ে উঠেন ভিন্ন ‘ক্ষমতাধর’ ব্যক্তি। শুরু করে দেন বিচার-শালিশ, ভূমি বাণিজ্য সহ নানা কিছু। তার কাছে আসতে শুরু করে বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন সেক্টর দখলকরা লোকজন। এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও তার প্রভাব চোখে পড়েছে। লাভলু নিজেও এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। তবে আসাদুজ্জামান আসাদ লিপি ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এমপির সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক করে শুধু লাভলু নয় তার ছেলে ভিকিও ক্ষমতাধর হয়ে উঠে। সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নানা অপকর্মে জড়ায় সে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তার চারপাশে থাকতো মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতারা। তবে চাষাঢ়ায় এক সিএনজি চালককে মারধর করে সিএনজি ভাংচুরের ঘটনায় ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছুটা নমনীয় হয় ভিকি। এসপি হারুন এ জেলা থেকে যাওয়ার পর আবারও আগের রূপে ফেরে সে।
সচেতন মহলের মতে, এমপি বেয়াই হওয়ায় লাভলু কিছু দিন খোজ মেজাজে ছিলেন। ছিলেন আনন্দে। আবার ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগের পতনের পর সেই আনন্দই বিষাদে পরিণত হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বেয়াই শামীম ওসমানের সঙ্গে লাভলুও অস্ত্র হাতে সড়কে নেমেছিলেন। সূত্র জানায়, বেয়াই আর সবার মতো তাকেও ডেকে নিয়েছিলেন। বেয়াইয়েল মতলব ছিলো সুবিধা নিবা আর ঝামেলায় থাকবে না তা হয় না। বেয়াইয়ের এ ডাকেই আবার জীবনে বিষাদ নেমে আসে ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলুর। এখন তিনি পলাতক। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।