শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় কার নাম

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ:২০:৪০,১০ অক্টোবর ২০২৬

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকায় কার নাম

.

জেলার সব ক’টি থানা এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলছে। চাঁদা না পেয়ে কেউ শিল্পপতিকে হুঙ্কার দিচ্ছে, কেউ মার্কেটের দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে, কেউবা বাহিনী নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে। অপকর্ম করায় ইতিমধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে আবার পরে কেউ কেউ দলে ফিরেছে। এমন অবস্থায় এবার নতুন করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকা করেছে এলিট ফোর্স এসআরবি (সাবেক র‌্যাব)। তালিকার খবর জানার পরেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কারা এই সন্ত্রাসী? সচেতন মহল বলছে, ক্ষমতাসীন দলেই রয়েছে অধিকাংশ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী। বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, অপরাধীর কোন দল নেই আর থাকলেও দল এবং সরকার কঠিন অবস্থানে রয়েছে। সূত্র বলছে, অপরাধ দমনে সরকার খুব শীঘ্রই হার্ডলাইনে যাবে।


এসআরবি তালিকা প্রকাশের পর কারা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী এমন প্রশ্নের উত্তরে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ক্ষমতার সাথে যারা যুক্ত তাদেরই বড় অংশ জড়িত। তিনি প্রত্যাশা করেন, এসআরবি তাদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে।
এসআরবি-১১ ব্যাটালিয়ান নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। এর অধীনে চাঁদাবাজের সংখ্যা ৫৬৫ জন। সন্ত্রাসী হলো ৪০৮ জন। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিরাও রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব এর মতে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কোন দল নেই। অপরাধী যে হউক তা বিবেচিত হবে না। আমাদের সরকার প্রধান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, বর্তমান প্রচলিত আইনে অপরাধীদের বিচার হবে। তা সে যে দলেরই হউক।


এসআরবি তালিকা নিয়ে বলেছেন, এ তালিকায় থাকা কারো কারো বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানরগ মহিলা দলের সভানেত্রি দিলারা মাসুদ ময়না বলেন, দলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে কিছু লোক সব সময়েই অপরাধ করে থাকে। তারা কোন দল নেই। তার মতে, এ ক্ষেত্রে পদ পদবী নেই এমন লোকেরাও দলের নাম ভাঙ্গায়। তাদেরকে বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিবে এমন প্রত্যাশা তার।


স্থানীয়রা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলায় চাঁদাবাজি হচ্ছে মহামারী আকারে। কোথাও প্রকাশ্যে কোথাওবা গোপনে। চাঁদা না দেয়ায় সম্প্রতি আড়াইহাজার বান্টি এলাকায় বাটিক প্রিন্টের মালামাল বিক্রি করা একটি মার্কেট বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলেও এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ভাইয়ের হুমকিতে তা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, অনেক এলাকায় বাড়িঘর তৈরী করতে চাঁদা দিতে হয়, কোথাও জমি বিক্রি করতে চাঁদা চায়, শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও চাঁদা চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 


ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, অপরাধ দমন করতে হলে আগে দলে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। ক্ষমতার প্রভাবে অনেকেই নিজের স্বার্থে অপকর্ম করে এটা দলের জন্য কোন লাভজনক বিষয় নয়।
এদিকে এসআরবি আরও জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ তালিকা করা হয়েছে। কাউকে হয়রাণি করতে নয় সব তথ্য যাচাই বাছাই করেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কাজ করবে এসআরবি।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু এসআরবির এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদক বিক্রেতা, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীর কোন দলীয় পরিচয় নেই। সে অপরাধী এটাই তার পরিচয়। দেশের জনগনের জান-মালের স্বার্থে এবং নিরাপত্তার জন্য সরকার কাজ করছে বলে জানান সরকার দলীয় এ নেতা।
সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির তালিকা সরকার প্রধানের দফতরেও রয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় আস্থাভাজনদের কাছ থেকে এ তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কারা এ তালিকায় আছে তা এ মুহূর্তে প্রকাশ না করা হলেও অচিরেই অভিযান চালানো হবে জানা গেছে।
 

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন