শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

ঠকলো নারায়ণগঞ্জ! জিতলো কে

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ:২০:৪৮,১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঠকলো নারায়ণগঞ্জ! জিতলো কে

.

অতীতে বিএনপির সব আমলে নারায়ণগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হতো। এবারই প্রথম সরকার গঠনের পর এ জেলার কেউ মন্ত্রীত্ব কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাননি। বিষয়টি নিয়ে চর্চ্চা থাকলেও মুখ খুলে দলের স্থানীয় কোন নেতা কথা বলেন না। সচেতন মহল বলছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরাম্বিত হয়। অপরদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, এখনো সময় ফুরোয়নি।


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকতে তার শ্রম উপদেষ্টা করা হয় কাশেম চৌধুরীকে। যিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের আলম খান লেনে বাস করতেন। এ ছাড়া বিএনপির প্রথম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য ছিলেন হাজী জালাল উদ্দিন (জালাল হাজী), যিনি পরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হউন। বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কালাম এর পিতা তিনি।
১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়া সরকারের স্বরাস্ত্রমন্ত্রী করা হয়  আব্দুল মতিন চৌধুরীকে। তিনি নারায়ণগঞ্জ-১ আসন (রূপগঞ্জ) এ সংসদ সদস্য এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জের দুইজনকে মন্ত্রী করা হয়। বস্ত্র মন্ত্রী করা হয় মতিন চৌধুরী কে এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয় সোনারগাঁয়ের তখনকার এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিমকে।


 এ তথ্য বলে দেয় দলটি শুরু থেকেই এ শিল্পাঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে এবার মন্ত্রী বা সরকারের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ না দেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এখন কি অবহেলার চোখে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে কথা হয় স্থানীয় রাজনীতি সচেতন মহলের সঙ্গে। তাদের মতে, সে সময়ে মতিন চৌধুরীর মতো জাদরেল রাজনীতিক ছিলেন এ দলে। তিনি দলের সর্বোচ্চ ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তারপরে এত উঁচু মাত্রার নেতৃত্ব এখানে গড়ে উঠেনি।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, নানা কারনে দল থেকে অনেক সিনিয়র নেতা বহিস্কৃত হয়েছেন। যাদের মধ্যে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক রেজাউল করিম, আতাউর রহমান আঙ্গুর, তৈমূর আলম খন্দকার, মোহাম্মদ শাহ আলম অন্যতম। কিছুটা দূরে সরে আছেন কাজী মনিরুজ্জামান। তাদের সমসাময়িক নেতারাও তেমন তৎপর নেই।


অপরদিকে তাদের তুলনায় বয়সে কম নেতারা কেউ কেউ দলের মনোনয়ন পেয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। দলের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই নেতৃত্ব থেকে কাউকে মন্ত্রী করার কথা হয়তো সরকার ভাবেনি। কেউ কেউ বলছেন যোগ্যতম না পাওয়ায় এ জেলার কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি।
তবে এ বক্তব্যের সাথে একমত নন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, এখনো মন্ত্রী করার সময় আছে। জেলায় অনেক যোগ্যতম নেতাও রয়েছেন বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত।


রাজনীতি বিশ্লেষকদের মনে করেন, বিএনপি থেকে অনেক সিনিয়র নেতা ছিটকে পড়ায় এ অবস্থা তৈরী হয়েছে। যারা দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে কাউকে মন্ত্রী করা হয়তো চিন্তা করেনি দল। তারা মনে করেন, দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা যদি এ দাবি জোরালো আকারে তুলে তবে হয়তো দল নতুন করে ভাববে।


এদিকে সামগ্রিকভাবে জেলায় মন্ত্রীর দাবি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সোচ্চার না হলেও নিজেদের পছন্দের নেতাকে মন্ত্রী করা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রচারণা চালানো হয়। ফেসবুকে নেতার ছবির সাথে  নিজের জুড়ে দিয়ে লেখে ‘অমুক ভাইকে মন্ত্রী করতে হবে’। কিংবা ‘তমুক ভাই মন্ত্রী হওয়ার যোগ্য’। তবে এসব প্রচারণা তেমন পাত্তা দেয়নি দলের নীতি নির্ধারকরা।


সরকারে ঠাই না মিললেও জেলায় কাউকে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসানো হয়েছে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করা হয়েছে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। জেলা পরিষদ প্রশাসক হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ। এ জেলায় মন্ত্রীত্ব পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে কয়েকজন বিএনপি নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কল দিলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর মতে, অনেক দিক চিন্তা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন মন্ত্রী দেয় নাই সামনে দিতেও পারে। তার মতে, জেলায় মন্ত্রী হওয়ার মতো নেতা রয়েছে। অবস্থার প্রেক্ষিতে সামনে কেউ মন্ত্রী হতে পারে।
 

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন