শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

বাদল-হাই এখন নাই

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ:১৯:৫৯,৩০ অক্টোবর ২০২৬

বাদল-হাই এখন নাই

.

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক হওয়ার পর হটাৎ আলোচনায় আসে আব্দুল হাই। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সব জায়গায় প্রশ্ন  উঠে, তিনি কে ? খুবই অপরিচিত এ রাজনীতিককে এমন পদে বসানোর পর বিষ্মিত হয় দলের নেতাকর্মীরা। তারা বলাবলি করে, আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা দলীয় কর্মকান্ডেতো তাকে দেখা যায়নি। এরপর জেলা আওয়ামীলীগে দুইবার সভাপতি হন তিনি।


দলের দুঃসময়ে না থাকার অভিযোগ রয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলের (ভিপি বাদল) বিরুদ্ধেও। তবে সু সময়ে তিনি সব কিছু পেয়ে যান।


আব্দুল হাই দেশ স্বাধীনের আগে ঢাকা জিলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতার পরও তিনি সক্রিয় ছিলেন দলে। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তাকে আর দলীয় কর্মকান্ডে দেখা যায়নি। তিনি তখন দৈনিক ইত্তেফাকের নারায়ণগঞ্জের এজেন্ট হিসেবে রেল স্টেশনে নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। দলীয় নেতাকর্মীদের দেখলে তিনি পত্রিকার পাতায় মুখ লুকাতেন বলে জানা গেছে। 


২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে এর প্রায় দুই বছর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক করা হয় আবদুল হাই কে। আর তখনই তার নাম জানে সবাই। কে তিনি, হঠাৎ এমন পদ কীভাবে পেলেন এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠে খোদ তার দলের নেতাকর্মীদের মাঝেই। দলের দুঃসময়ে না থেকেই এমন পাওয়ায় বিষ্মিত হয় অনেকে। তবে এখানেই শেষ নয় তিনি আরও চমক দেখান। ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর প্রথম জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি করা হয় আবদুল হাইকে। একই সময়ে সাধারণ সম্পাদক হন ভিপি বাদল। ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর ইসদাইর ওসমানী স্টেডিয়ামে সম্মেলন মঞ্চে ফের তাদের নাম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের।


হাই ও বাদলের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে জোরালোভাবে। তারা পছন্দের লোকজনকে কমিটিতে দিয়ে টাকা কামাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সংসদ নির্বাচনেও নজরারানা নিয়ে তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভাষন দিতেন। রূপগঞ্জে প্রথমে রফিকুল ইসলামের (আন্ডা রফিক)    পক্ষে যান হাই। পরে গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতিক) দলের মনোনয়ন পেলে তার সঙ্গে ছিলেন। যখন আন্ডা রফিকের মঞ্চে ছিলেন তখন তিনি গাজীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ দুইজন কমিটি বাণিজ্য ছাড়াও চাঁদাবাজি করতেন এমন অভিযোগ তখনই উঠে। 


সূত্র জানায়, ভিপি বাদল ওসমান পরিবারের তৈরী এক চতুর রাজনীতিক। তোলারাম কলেজে একাধিকবার ভিপি, কলেজে ভর্তি বাণিজ্য দিয়ে তার অর্থের ভিত্তি গড়ে উঠে। ’৯৬’র আওয়ামীলীগ আমলে তাকে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক করা হয়েছিলো। হাইকোর্টে রিট হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যে তাকে ওই পদ ছাড়তে হয়। শিক্ষা দফতরের ফ্যাসিলেটিজ বিভাগে একচ্ছত্র টেন্ডার ছিলো তার দখলে। আওয়ামীলীগ ও ওসমান পরিবারের বদৌলতে তিনি সব কিছু পেলেও দলের দুঃসময়ে তিনি কোনদিন থাকতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে দলের নেতাকর্মীদের। এরশাদ সরকারের সময়ে নাসিম ওসমান জাতীয় পার্টি করায় বাদল লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করেছেন আর তাই তাকে লাঙ্গল মার্কা আওয়ামীলীগ বলেও ডাকে অনেকে। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদের পাশাপাশি ভিপি বাদল জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে আছেন দীর্ঘ ২২ বছর যাবত।


সূত্র জানায়, দলের পদ পদবী পেয়ে আবদুল হাই ও ভিপি বাদল অঢেল অর্থ কামিয়েছেন। আবদুল হাইয়ের শহরেই সম্পদ রয়েছে অনেক। ভিপি বাদল চতুরতার সাথে ঢাকায় ও বিদেশে সম্পদ করেছেন বলে জানা গেছে। 
জেলা আওয়ামীলীগের এ দ্ইু নেতা এখন পলাতক। তবে তারা  দেশেই রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও বিএনপির কতিপয় নেতার শেল্টারে তারা আছেন আরাম আয়েশেই।

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন