শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:১৯:১০,১৯ অক্টোবর ২০২৬
আবুল কালাম | মাসুদুজ্জামান
এ পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য হয়েছেন আবুল কালাম। একেক নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। যদিও এর আগে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তেমন একটা যুদ্ধ করতে হয়নি যতটা গেলো নির্বাচনে হয়েছে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর তুলনায় আবুল কালাম ছিলেন নবীণ রাজনীতিক। তিনি নিজেই তখন মদনগঞ্জ টিক্কার মোড় সহ বিভিন্ন সমাবেশে বলতেন, ‘আমি মাত্র ১৭ মাস ধরে রাজনীতিতে এসেছি।’ অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন অধ্যাপিকা নাজমা রহমান। তিনি নানাভাবে পরিচিত ছিলেন। তার দল আওয়ামীলীগের জেলা ও শহর কমিটির শীর্ষ পদে ছিলেন। বক্তা হিসেবেও ছিলেন ঝানু। অনেকেই তাকে নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকণ্যা বলতো। তবে নির্বাচনে নাজমা রহমানকে হারিয়ে জয়ী হন আবুল কালাম। ওই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে তার প্রতিদ্বন্দি¦ ছিলেন ব্যবসায়ী এম এ ওহাব। ৯১’র নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির নাসিম ওসমান। অভিযোগ রয়েছে, ওসমান পরিবার তথা শামীম ওসমান এবং তার অনুগতরা নাজমা রহমানের বিপক্ষে গিয়ে নাসিম ওসমানের হয়ে কাজ করেছেন। এ কারনে কাউকে কাউকে লাঙ্গল মার্কা আওয়ামীলীগার বলা হয় আজীবন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনেও বিএনপির মনোনয়নে এমপি হন আবুল কালাম। যদিও ওই সংসদের মেয়াদ বেশি দিন হয়নি। ‘৯৬তেই আরেকটি নির্বাচন হয় এবং সে নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের এসএম আকরামের কাছে আবুল কালাম হারেন।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ফের মনোনয়ন দেন আবুল কালামকে এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি আবার জেতেন। হারেন নৌকার এস এম আকরাম।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম নির্বাচনে আবুল কালাম নবীণ রাজনীতিক হলেও তার বাবা হাজী জালাল উদ্দিনের (জালাল হাজী নামে পরিচিত) নামেই দলীয় মনোনয়ন পান। নির্বাচনে জেতার পেছনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ এবং নাজমা রহমানের দলীয় কোন্দল কাজ করেছে। তবে জালাল হাজীর পরিবারের সুনাম ও আবুল কালামের ভদ্র আচরণও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। এসব কারণে পরর্তী দুইটি নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন পান সহজেই। ২০০৮ এ ৯ম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি তাকে মনোনয়ন দিয়েছিলো।
অনেকে মনে করেন, তার দলীয় মনোনয়ন ত্রয়োদশ নির্বাচনেই প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। তার মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বি হন কয়েকজন। এরমধ্যে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন যেমন রয়েছেন তেমনি দলের বাইরেও রয়েছেন। তাকে বেশী চ্যালেঞ্জে ফেলে দেয় শিল্পপতি মডেল গ্রুপের কর্ণধার মাসুদুজ্জামান, যিনি মডেল মাসুদ নামে পরিচিত।
মডেল মাসুদ শুরু থেকেই ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন। খরচও করে ব্যাপক। যে জন্য বিএনপি নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন তার দ্বারস্থ হয় সহজে। অনেকের ধারণা ছিলো আবুল কালামের বয়স হয়ে গেছে হয়তো দল তাকে আর মনোনয়ন দিবে না। বিএনপিও প্রাথমিক মনোনয়ন দেন মাসুদুজ্জামানকে। দলের সবুজ সংকেত পেয়ে আরও জোরেশোরে মাঠে নামেন এ ব্যবসায়ী। তবে হঠাৎ করে নাটকীয়ভাবে নির্বাচন থেকে সরে যাবার ঘোষণা দেন তিনি। যদিও পরে তা শোধরে নিয়ে ফিরে আসার ঘোষণা দেন তবে ততক্ষনে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে।
চূড়ান্ত মনোননের বেলায় বিএনপি শেষতক তাদের পুরনো লোক আবুল কালামকেই বেছে নেয়। সূত্র মতে, একটি সভায় কালাম পুত্র আবুল কালাম আশার বক্তব্যের কারনে মডেল মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে যান।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, অনেক যুদ্ধ করে ভোটে সংসদ সদস্য হলেও আবুল কালামের দলীয় মনোনয়নের পেছনে মডেল মাসুদের ভূমিকা আছে। তবে সে ভূমিকা মাসুদ নিজ থেকে রাখেননি। তার নড়চড়ে অবস্থানই আবুল কালামকে দলের মনোনয়ন পেতে সহায়তা করেছে।
দলীয় সূত্র বলছে,হঠাৎ মডেল মাসুদ সরে দাঁড়ানো পর কাকে মনোনয়ন দিলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন বিএনপির ঘরে যাবে এ চিন্তা থেকেই দল কালামকে মনোনয়ন দেয়। কারণ দলীয় মনোনয়নে পরাজিত হলে তা মডেল মাসুদের জন্য সুখকর হতো। তিনি মনে করতেন, তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় এ আসনে বিএনপি হেরেছে। এসব বিষয় চিন্তা করেই কোন রকম ঝুঁকি নিতে চাননি বিএনপি। যদিও আবুল কালামকেও বেশ লড়াই করেই জয়ী হতে হয়েছে।