শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
আনোয়ার হাসান
প্রকাশ:১২:৩৭,২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সেলিম ওসমান
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম ওসমান প্রশ্ন করতে বলায় আমিই প্রথমে দু’টি প্রশ্ন করলাম। প্রশ্ন শুনে কিছুটা সময় চুপ থাকলেন। তারপর স্মিত হেসে মাইক নিয়ে বললেন, ডিফিকাল্ট। ততক্ষনে আমার মেসেঞ্জার, হোয়াটসএ্যাপে কয়েকজন সাংবাদিক বার্তা পাঠিয়েছেন।
সময়টা ছিলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করবেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির মনোনীত সেলিম ওসমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুনলাম প্রশ্ন করা যাবে না, পরক্ষনে প্রশ্ন করতে বললেন স্বয়ং সেলিম ওসমান। হাত তুলে আমি প্রশ্ন করার অনুমতি চাইলাম, তিনি মাইক হাতে বললেন, হ্যা করেন। আমি মাইক ছাড়াই শুরু করলাম। আমার প্রথম প্রশ্ন ছিলো----
২০১৪ সালের ২৬ জুন উপ নির্বাচনে আপনি প্রথম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে এমপি হন। এরপর একাদশ সংসদে আরেকবার, দীর্ঘ এ সময়ে আপনার নির্বাচনী এলাকায় আপনার কোন অফিস দেখিনি। এবার নির্বাচিত হলে অফিস করবেন কি?---- কিছুটা থেমে এবার আমি ২য় প্রশ্ন করলাম----
আপনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, এ দলের মনোনয়নে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছেন-এবারও এ দলই আপনাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আপনি বিভিন্ন সময়ে বলেন, আপনি আওয়ামীলীগের, আপনি বঙ্গবন্ধুর। আমরা জানি আপনার পরিবারের সদস্য এ দলের প্রতিষ্ঠাকালে জড়িত ছিলো। তবে এবার নারায়ণগঞ্জে আপনার আসন ছাড়াও আরও কয়েকটি আসনে নৌকা ও লাঙ্গল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আমার প্রশ্ন হলো, ওই আসনগুলোতে আপনি কার জন্য দোয়া করবেন ? নৌকা না লাঙ্গল ?
এ প্রশ্ন করার সাথে সাথে আমার আশপাশ থেকে কয়েকজন বলে উঠলেন, দারুণ প্রশ্ন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন, মেসেঞ্জার, হোয়াটসএ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে প্রশ্নের জন্য প্রশংসা করলেন।
এদিকে প্রশ্ন শুনেই চুপ করে থাকলেন সেলিম ওসমান। কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। এরপর মাইক হাতে নিয়ে সামান্য হেসে উত্তর দিলেন, ‘ডিফিকাল্ট’।
আমি আর সম্পূরক প্রশ্ন করিনি।
অনুষ্ঠান শেষে সবার সাথে কুশল বিনিময়কালেও তিনি আমার দিকে তাকিয়েই ছিলেন। এমনকি নির্বাচনের দিন একটি ভোট কেন্দ্রে আমার সাথে দেখা হয়েছিলো। সেখানেও তিনি অনেকক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
(লেখক: জেলা প্রতিনিধি, আরটিভি ও সম্পাদক-হ্যালো নারায়ণগঞ্জ)