শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:২০:৩২,৩ অক্টোবর ২০২৬
.
জেলায় নানা অপরাধের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কতিপয় নেতার নাম যুক্ত হচ্ছে। নিজেরা নানা স্বার্থে কোন্দলে লিপ্ত হয়েও সুনাম নষ্ট করছে দলের। এসব কান্ডে মানুষ যেমন ক্ষুব্দ হচ্ছে তেমনি দলের নেতাকর্মীরাও বিব্রত। তবে আশার খবর হলো দলের শীর্ষ মহল এসব দমনে তৎপর হয়ে উঠছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপিতে অপকর্ম করে এমন নেতাদের বিশেষ তালিকা ইতিমধ্যেই দলীয় প্রধানের দফতরে রয়েছে বলে জানা গেছে। মাঠ পর্যায়ে থেকে বিভিন্ন সূত্রে একাধিক তালিকা হয়েছে। যা যাচাই বাছাই করে অচিরেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দলের একটি বড় অংশ। তাদের মতে, যারা দল ভাঙ্গিয়ে লুটপাট করে নিজের আখের গুছায় তারা দলের জন্য বোঝা। নাগরিক নেতাদের মতে, পালিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি ভালো নয় তা মনে রাখতে হবে।
জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সভা সমাবেশে না থেকেও সু সময়ে দলে ভিড়ে অনেকেই চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি শুরু করেছে। তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের কদর না করে তারা নিজেদের লোকজনকে সুবিধা দিচ্ছে। এই সুবিধাবাদি নেতাকর্মীরা রীতিমতো চাই চাই খাই খাই শুরু করেছে। ওই নেতার মতে, সাকে প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া যেভাবে কঠোর হয়ে ক্লীন হার্ট অপারেশন করে অরাজকতা কমিয়েছিলেন এখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকেও সেই পথে হাটতে হবে।
সম্প্রতি ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ সভাপতি মো. শহিদ উল্লাহ তার ফেসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যাতে তিনি লেখেন ‘ কি বুঝলেন ম্যাসেজ ক্লিয়ার। চাঁদাবাজি ও ঝুট সন্ত্রাসী ভূমি দস্যু মাদক বিক্রেতা এবং কর্মীদের হক যারা মেরে খাচ্ছেন তাদের সকলের আমলনামা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে হাজির। অচিরেই তাদের চিৎপটাং করে দিবে মিষ্টি আপুর মতো। তার এমন স্ট্যাটাসে অপরাধীরা দলকে কলুষিত করছে তা পরিস্কার হয়েছে।
এ পোস্ট নিয়ে কথা হয় ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ সভাপতি মো. শহিদ উল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, ভাই মনের দুঃখে পোস্ট দিয়েছি। দলের মধ্যে কিছু মানুষ অপরাধ করে দলের সুনাম নষ্ট করছে।
এছাড়া জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি কে নিয়ে একাধিক পোস্ট দেখা গেছে ফেসবুকে। সব পোস্টের সারমর্ম হলো, জেলা যুবদল কমিটি গঠনে রনিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
মশিউর রহমান রনিও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে তৈরী হয়েছি এটা দলের ভিতর একটি অংশ এবং দলের বাইরের একটি অংশ মেনে নিতে পারেন না। শেখ হাসিনা সরকারকে বিতাড়িত করেও আমি বসে নেই। দলের নির্দেশে এখনও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কাউকে মিছিল করতে দেই নাই। নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলাম এখনও আছি। তবে যখনই জেলা যুবদল কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয় তখনই এ দুই অংশ আমার নামে নানা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায়।
জেলা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, কারা দুঃসময়ে ছিলো আর কারা সুসময়ের সাথী হয়ে নানা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে তা দল জানে। এমনকি হাই কমান্ডও এ বিষয়ে অবগত। আমরা শুনেছি, অচিরেই দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে।
সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজিতে বিএনপি সংশ্লিষ্ট কারো কারো নাম এসেছে। কেউ চাঁদা না দিলে মার্কেট বন্ধ করে দিচ্ছে। কেউ প্রতিপক্ষকে ঠেকাতে হামলা করছে। কেউ আবার বিভিন্ন সেক্টর দখল করতে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, আগে যারা আওয়ামীলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) স্থানীয় কতিপয় নেতার সাথে থেকে সমাজে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, মাদক বিক্রির মতো অপরাধে জড়িত ছিলো তাদের অনেকেই এখন বিএনপির কতিপয় নেতার সাথে মিছে গেছে।
এ নিয়ে কথা হয় নাগরিক সংগঠন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র সভাপতি নূর উদ্দিন আহমেদ এর সঙ্গে। তার মতে, সব জায়গাই নানা অনিয়মের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতার নাম উঠে আসে। দলও বহিস্কার সহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে দলের নেতাকর্মীদের মনে রাখতে যে কারনে একটা দলকে তাড়ানো হলো তা যদি না থামে তবে তা শুভ লক্ষন নয়। এ নাগরিক নেতা বলেন, ক্ষমতা না থাকলেই পালিয়ে যেতে হয় এটা ভালো সংস্কৃতি নয়। বরং ক্ষমতায় থাকতে এমন কাজ করতে হবে যাতে ক্ষমতাহীন হলেও মানুষ তাদের ভালোবাসবে। নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার ভালো করলে দেশের জন্য ভালো।