শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:১২:৫৩,৪ অক্টোবর ২০২৬
মনিরুল হক রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জু
জামালের সিএনজি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতো মনিরুল হক রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জু। রাত বিরাত যখন ডাকতো ছুটে আসতো জামাল। এভাবে ডাকতে গিয়ে নজর পড়ে জামালের সুন্দরী স্ত্রীর দিকে। বিষয়টি টের পেয়ে রঞ্জু বাহিনীর কাছ থেকে ছুটতে চেয়েছিলো সিএনজি চালক। এ কারনেই তাকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দেয়া হয়।
মরদেহ উদ্ধার
২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া প্রেসিডেন্ট রোডের একটি বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের মাটি খুঁড়ে সিএনজি চালক জামালের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে রঞ্জুর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলে সে সব ফাঁস করে দেয়।
পেটের ভুরি কাটা হয়, ছিটানো হয় ব্লিচিং পাউডার
বস্তায় লাশ ভরতে সুবিধার জন্য মরদেহের ভুরি কাটা হয়। এরপর মাটি খুঁড়ে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়। বস্তায় লাশ ভরে আরেক দফা ব্লিচিং পাউডার দেয়া হয়। যাতে লাশ দ্রুত পচন ধরে। তবে এতকিছু করেও শেষ রক্ষা হয়নি শহরের শীর্ষ ছিনতাইকারীদের একজন গাল পোড়া রঞ্জুর।
এ ঘটনায় জামালের স্ত্রী সখিনা বেগম বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ থানায় মামলা করেন। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট মামলার রায়ে রঞ্জুকে মৃত্যুদন্ড ও তার সহযোগী আকাশ আহাম্মেদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাজমুন নাহার সুমি এ রায় দেন। রায়ে আর্থিক জরিমানাও করা হয়। রঞ্জু নারায়ণগঞ্জ শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের কবির হোসেনের ছেলে এবং আকাশ সিলেট বিয়ানিবাজার শরীফ আহাম্মেদের ছেলে।
মামলায় জামিনে থাকা রঞ্জু রায় ঘোষনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকা থেকে রঞ্জুকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-১১ (সাবেক র্যাব ১১)। এক প্রেস রিলিজে এসআরবি জানায়, ২০১১ সালের ১৩ জুলাই জামালকে হত্যার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ থানায় মামলা হয়। প্রায় ১৫ বছর পর মামলার রায়ে তার মৃত্যুদন্ডাদেশ হয়। ৩ অক্টোবর রাত সোয়া ৮ টার দিকে ফতুল্লা থেকে রঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।