শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ:২০:৩০,৫ অক্টোবর ২০২৬
.
একদলের ঝান্ডা নিয়েই লড়েন, থাকেন এক পতাকার তলে। সখ্য যখন থাকে সখাসখির মতোই চলতে দেখা যায় সর্বত্র। দ্বন্দ্ব হলেই মূহুর্তেই বদলে যায় সব। একজন আরেকজনের নামে নানা রকম কুৎসা ছড়ায় এমনকি লাঞ্ছিত করতেও ছাড়েন না। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এমন অবস্থা দেখা গেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগে। রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছেন, নৈতিকতার রাজনীতির অভাব।
২০০৯ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির কমিটি গঠন হয় সাবেক পৌর কমিশনার জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে। জেলা বিএনপির তখনকার সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার এ কমিটির পক্ষে ছিলেন। তা না মেনে শহর বিএনপির পাল্টা কমিটি করা হয়। আমলাপাড়ার নূর ইসলাম সরদারকে সভাপতি, বর্তমান সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক এবং আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। বিদ্রোহী এ কমিটির কর্মসূচীতে বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কালাম হাজির থাকতেন। তার শেল্টারেই এ পাল্টা কমিটি গঠন হয় বলে জানা গেছে। এ দুই কমিটির মধ্যে বাগযুদ্ধ হয়েছে অনেক এমনকি শহরের ২নং গেট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি হয়। এ কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি হন এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এরপর থেকে কালাম-কামাল বলয় দলীয় কর্মসূচী করলে সেখানে থাকতেন না সাখাওয়াত। তিনি ভিন্ন কর্মসূচী করতেন।
বিএনপিতে আতাউর রহমান মুকুলের উত্থান শহর-বন্দর নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের হাত ধরে। মুকুল প্রকাশ্যে কালামকে বড় ভাই সম্বোধন করতেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেলে মুকুল তার ব্যাণারে যান। পরে আবুল কালাম চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেও তার সাথে আর মুকুলকে দেখা যায়নি। বরং আবুল কালাম পুত্র মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু কাউসার আশা সভায় ঘোষনা দিয়ে জালাল হাজীর পরিবারের তিন পুরুষের ব্যখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ বুঝিয়ে দিয়েছেন মুকুল তাদের কেউ নন।
এর জবাব সম্প্রতি নগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান সহ অনেক নেতার উপস্থিতিতে মুকুল দিয়েছেন।
কখনও মিল কখনও অমিল রাজনীতিকদের এমন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হয় সিনিয়র সাংবাদিক ইউসুফ আলী এটমকে। তিনি বলেন, রাজনীতি ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়া। কোন কিছু স্থির থাকে না। চলার পথে কখনও কাছে আসে আবার কখনও ছিটকে যায়। অনেকটা গ্রহন বর্জনের মতো। স্বার্থ আছে তো গ্রহন করে আবার স্বার্থ শেষ হলেই বর্জন করে।
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে শামীম ওসমান, খোকন সাহা, ভিপি বাদলকে তিন বন্ধু হিসেবে জানে স্থানীয়রা। শামীম ওসমানের পক্ষেই তারা রাজনীতি করতেন এমনকি তার প্রতি বা তার পরিবারের প্রতি আনুগত্যের জন্য জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষেও কাজ করেছেন। যদিও জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন নিয়ে খোকন সাহার সঙ্গে শামীম ওসমানের বিরোধ হয়েছিলো। তখন তাকে অনুগত জুনিয়রদের নিয়ে লাঞ্ছিত পর্যন্ত করিয়েছে শামীম ওসমান। ভিপি বাদল তার ভাই বাবুকে দিয়ে এক সময়ে শিক্ষা বিভাগের সব টেন্ডারের কাজ নিয়ন্ত্রন করলেও পরে তা কেঁড়ে নেন শামীম ওসমান। তার হয়ে শেষ পর্যন্ত এ টেন্ডার দেখভাল করতেন তারই চাচাতো শ্যালক এহসানুল হাসান নিপু।
২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী সফর আলী ভূঁইয়া। পরে তা বদল হয়ে পান মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তার মনোয়ন পাওয়ার পেছনে শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীর হাত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এরপর গিয়াসউদ্দিন এর এপিএস পরিচয় দেয়া মিল্টন খন্দকার বাদি হয়ে ফতুল্লা থানায় মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে চেইন ছিনতাইয়ের মামলা করেছিলেন। যার প্রধান স্বাক্ষী ছিলেন গিয়াসউদ্দিনের আরেক এপিএস আক্তার খন্দকার।
রাজনীতিতে আপন হঠাৎ পর হয় কেন এমন প্রশ্নের জবাবে রাজনীতিক এডভোকেট আওলাদ হোসেন। তিনি বলেন, ক্ষমতা, পদ পদবী এবং অনৈতিক দ্বন্দ্বে সম্পর্ক নষ্ট হয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন এক দলের আদর্শ একই। আদর্শ যদি এক হয় তবে দ্বন্দ্ব হবে কেন? ন্যাপ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন এর মতে, নৈতিকতার রাজনীতির অভাব থেকেই এমন হয়।