শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

কখন ভিড় হয়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ:২০:১৭,৬ অক্টোবর ২০২৬

কখন ভিড় হয়

.

নারায়ণগঞ্জের চৌকষ রাজনীতিকের তালিকা করা হলে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের নাম তালিকার প্রথমদিকেই থাকবে এমন কথা তার প্রতিপক্ষও মেনে নেন। তৈমূর আলম খন্দকারকে মাঠের রাজনীতিকের পাশাপাশি বিএনপির সবচেয়ে সুবিধাভোগী বলা হয়। সেই তুলনায় মোহাম্মদ শাহ আলম রাজনীতিক হতে পারেননি কখনও। তবে একটা সময়ে দলে গ্রহণযোগ্যতা ছিলো বেশ।

এ তিনজনের একজনও এখন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। দু’টি নির্বাচনে তিনজন ঝড়ে পড়েছেন তাদের নেতাকর্মীদেরও বেকায়দায় ফেলে। রাজনীতির কঠিন পথে নেতারা তাদের ভিন্ন ভিন্ন বলয় গড়ে তুলেন। কর্মীরাও বিভক্ত হয় তাদের কারনে। এক নেতার কর্মীদের অন্য নেতা পছন্দ করেন না বলে বিশ্লেষণ রাজনীতি সচেতন মহলের।

শিল্পপতি শাহ আলম পুরোদস্তর রাজনীতিক না হলেও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংগঠনে তৎপর ছিলেন বেশ। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি পদ ছিলো তার। দলীয় সূত্র বলছে, সে সময়ে দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও তার পছন্দের লোক ছিলো। রাজনীতিতে ঢুকতে না ঢুকতেই একটা বলয় তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছিলো। তাদের নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি রাজনীতিতেও কিছুটা সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তবে নির্বাচন এলে বেশী তৎপরতা দেখা যেতো তার। আর এ নির্বাচনই তাকে বিএনপিতে এনেছে আবার নির্বাচনই বিএনপির সাথে দূরত্ব বাড়িয়েছে।

রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, ভ্যানগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারনে শহরে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। তবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সবচেয়ে বেশী পরিচিতি পান এ আইনজীবী। জেলা বিএনপির শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতার সময়ে তিনি বিআরটিসির চেয়ারম্যান হন। আর তখনই সারা দেশে পরিচিত হন তৈমূর আলম। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, তৈমূর বিএনপিকে যা দিয়েছে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশী পেয়েছে।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান এরপর সংসদ সদস্য সব কিছুই জুটেছে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের বরাতে। ছাত্র জীবনেই সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হন তিনি। এরশাদ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়ন বোর্ড তাকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার মনোনয়ন দেয়। তখন তিনি কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি। তবে ক্যারিশমা দেখিয়ে সেই মনোনয়ন বাগিয়ে নেয় শামীম ওসমান। বিজয়ী হওয়ার পর গিয়াসউদ্দিনকে নানাভাবে ঘায়েল করতে থাকে শামীম ওসমান। তার যন্ত্রনায় এক পর্যায়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রথমে চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী সিদ্ধিরগঞ্জে সফর আলী ভূঁইয়া মনোনয়ন পেলেও পরে তা বদল হয়ে গিয়াস উদ্দিন পান। তিনি সংসদ সদস্য হন। গিয়াসউদ্দিন জেলা বিএনপির শীর্ষ পদে একাধিকবার ছিলেন। রাজনীতি অঙ্গনে তাকে ঝানু রাজনীতিক পাশাপাশি তুখোড় বক্তা বলেও অভিহিত করেন।

গিয়াসউদ্দিন, তৈমূর আলম ও শাহ আলম যখন বিএনপির পদে ছিলেন তখন তাদের চারপাশে অনেক নেতাকর্মী থাকতো। তাদের ব্যস্ত থাকতে হতো নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কিংবা ফোনে। সকাল হলেই তাদের বাড়ি কিংবা অফিসে আনাগোনা শুরু হতো। জানা গেছে, এখন আর খুব বেশী লোকজনের যাতায়াত নেই তাদের কাছে। তবে তিনজনের মধ্যে কারও কারও কাছে এখনও লোকজন যায় বলে জানা গেছে।

পদ থাকলে নেতাকর্মীর ভিড় থাকে না থাকলে থাকে না কেন এমন প্রশ্ন করা হয় সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েলের কাছে।

ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ক্ষমতার স্বাদ পেতে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে চায় মানুষ। যখন পদ থাকে তখন প্রয়োজনীয় মানুষের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় মানুষজনও ভিড় করে। আবার পদ চলে গেলে ভিড় কমে যায়। এটা এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে ধীমান সাহা জুয়েল এর মতে, যিনি যোগ্য তিনি পদে না থাকলেও মানুষের কাছাকাছি থাকেন। এমন উদাহরণ নারায়ণগঞ্জে রয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্পর্কিত বিষয়:

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন