শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:২০:৫৭,৬ অক্টোবর ২০২৬
.
সব মিলয়ে অন্তত ২৬ জন শিক্ষক ছিলেন। এরমধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাও রয়েছেন। তবুও কারও খেয়াল হয়নি শহীদ মিনারে জুতা খুলে উঠা উচিত। হাসিমুখে জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদীতে গিয়ে ছবি পর্যন্ত তুলেছেন। এমনটা হয়েছে নারায়ণঞ্জ সদর উপজেলার হরিহর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় সমালোচনায় যুক্ত হয়েছে অনেকে।
দিনটি ছিলো বিশ্ব শিক্ষক দিবস। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে দিবস পালনে একত্রিত হন এ বিদ্যালয়েল শিক্ষক শিক্ষিকাগণ। অনুষ্ঠানের শেষে তারা ফটো সেশনে যোগ দেন। ছবি তুলতে বেছে নেন বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা মহান ভাষা আন্দোলনে বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে। সেখানে তারা জুতা পরেই ছবি তুলেন এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেন। ছবিতে কয়েক জোড়া জুতা খুলে রাখার চিত্রও ধরা পড়েছে। এতে পরিস্কার হয়েছে সবাই জুতা পরে শহীদ মিনারে উঠেননি।
এদিকে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় স্থানীয়ভাবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরমধ্যে তাজুল ইসলাম কাজল নামে একজন তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা কে অবমাননা করা খুব জরুরী? প্রত্যেকটা অর্জনের পিছনে যে ত্যাগ ছিলো তার ছিটেফোঁটাও আপনাদের কারো জীবনে কখনো সইতে হয়নি। এদেশের মানুষের জীবনের প্রয়োজনে যাঁরা আত্মত্যাগ করলো তাদের মনে রাখার কোন প্রয়োজন নেই মানলাম কিন্তু মনের গভীরে কৃতজ্ঞতা বোধটুকু ও জন্মাবার কি মানসিকতা থাকবে না।-------তিনি স্ট্যাসে আরও অনেক কিছু লিখেছেন।
সাইদুর রহমান সাকিল নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ভাষা নেই’। হাবিবুর রহমান হাবিবের মন্তব্য ছিলো ‘ শিক্ষক দিবসের শিক্ষকদের এই অবস্থা। এ লজ্জা রাখি কোথায়?’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও এলাকায়ও এ নিয়ে কড়া সমালোচনা হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, শিক্ষকরা যেখানে শিখাবেন তারাই যদি ভুল করে তবে মান কষ্টকর।
ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লুৎফুন্নেছা লাভলী। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, অনেকেই জুতা খুলে উঠেছে তবে সামনের সারিতে যারা ছিলো তারা জুতা খুলেননি। খোলা জুতার সংখ্যা কম বলে প্রতিবেদক জানালে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, আসলে ভুল হয়েছে।
দুই শিফটের শিক্ষকদের নিয়ে ছবি তোলার সময়ে প্রধান শিক্ষিকা নিজেও জুতা পায়ে সামনের সারির মাঝখানে ছিলেন।