শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

আবার মিলবে মেলা

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ:২০:১১,৭ অক্টোবর ২০২৬

আবার মিলবে মেলা

.

একটার পর একটা মামলার আসামী হয়ে নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারও কারও মামলার সংখ্যা একশ’ ছাড়িয়ে গেছে। এলাকায় থাকতে না পেরে অন্যত্র গিয়ে বাস করছেন। কেউ জেলে, জামিনে বেরিয়ে পলাতক জীবন বেছে নিয়েছেন। গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য কবরস্থানে পর্যন্ত রাত কাটিয়েছেন।  শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এ ছিলো নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাস্তব গাঁথা জীবন।
এরমধ্যে কেউ কেউ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আপস করেছেন কেউ আবার আগেভাগেই সরকার দলের লোকজনের সঙ্গে আপসরফা সেরে নিয়ে চুপ থেকেছেন। তবে গেলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেকেই হঠাৎ বিএনপি হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের। তাদের মধ্যে কেউ কেউ লন্ডন থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন বলে প্রচার করতে থাকেন। কেউ আবার হাই কমান্ডের নাম ভাঙ্গান। একজনতো প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েই হুলুস্থুল ফেলে দেন।


আবু জাফর বাবুল (প্রাইম বাবুল নামে পরিচিত) কে শিল্পপতি হিসেবে শহরবাসী চিনে অনেক আগে থেকেই। জুলাই আন্দোলনে আওয়ামীলীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর তিনি প্রচার শুরু করেন তাকে বিএনপি মনোনয়ন দিবেন। এমনকি তার লন্ডন কানেকশনের কথাও শোনা যায়। পোস্টার ব্যাণারের ছড়াছড়িও দেখা যায় বেশ। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, দলের আন্দোলন সংগ্রামে কোনদিন দেখা যায়নি প্রাইম বাবুলকে। 
আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান (যিনি মডেল মাসুদ নামে পরিচিত) রাজনীতি করেন এ কথা কেউ শুনেনি। কোন দলের সাথে তিনি রয়েছেন তাও কখনও আলোচনা হয়নি। তখন তিনি তার ব্যবসার পাশাপাশি একটি ব্যাংকের পরিচালক হন। জুলাই আন্দোলনে সরকার পতনের পর তিনি চেম্বার্স অব কমার্সের সভাপতি হন। বিকেএমইএ তে পদ পাচ্ছেন এমনটা শোনা গেলেও পরে আমার নারায়ণগঞ্জ নামে একটি সংগঠন করেন। এ সংগঠনের উদ্যোগে এক গোলটেবিল বৈঠক করে হৈচৈ ফেলে দেন। তবে এখন আর সংগঠনের কোন খবর নেই। তিনিও বিএনপির মনোনয়নের জন্য আগেভাগেই প্রচার, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনুদান প্রদান শুরু করেন। পোস্টার ব্যাণারে তার নাম জেনে যায় অনেকে। বড় বড় ভোজেরও আয়োজন করে চমকে দেন। এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পান মডেল মাসুদ। তখন আরও জোরেসোরে প্রচারে নামেন। তার সাথে অরাজনীতিক থেকে শুরু করে বিএনপির একদল নেতাও যোগ দেয়। হঠাৎ করে মডেল মাসুদ ঘোষণা দেন তিনি নির্বাচন করবেন না। তার এ ঘোষণার চমক কাটতে না কাটতেই আবার নির্বাচন করবেন বলে জানান। তবে ততদিনে পরিস্থিতি বদলে গেছে। বিএনপি তাদের পুরনোজন আবুল কালামকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেন।


রাজনীতি সচেতন মহল বলছেণ, নির্বাচনের আগে নিজেদের মনোনয়ন নিয়ে যতটা তৎপর ছিলো মডেল মাসুদ এবং প্রাইম বাবুল এরপর আর তাদের তেমন রূপে দেখা যায়নি। নির্বাচনের পর একদম চুপসে গেছেন দুইজনেই। এখন আর বিএনপি কিংবা রাজনীতিতে তেমন শব্দ করেন না তারা।
এ নিয়ে মাসুদুজ্জামান ও আবু জাফর বাবুল এর মোবাইল ফোন ও হোয়াটসএ্যাপে কল এবং মেসেজ দিলেও তাদের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।


শুধু তারা দুইজনেই নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জে অনেকেই বিএনপির মনোনয়নের জন্য ছোটাছুটি শুরু করে। মডেল মাসুদ কিংবা প্রাইম বাবুলকে তো মানুষ চেনে এমনও ব্যক্তি মনোনয়ন পাবেন বলে প্রচার শুরু করেন যাদের মানুষ চেনেই না। জীবনে কোন রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না  এমন মানুষ ঘোষণা দেন তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাবেন এবং নির্বাচন করবেন। কেউ আবার কোনকালে বিএনপির রাজনীতি করেছেন, দুঃসময়ে সরব ছিলেন না তাদের মধ্যেও কেউ কেউ মনোনয়ন পাওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেন।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সুবিধার সময়ে অনেকেই রাজনৈতিক দলে ভিড়েন আবার না পাওয়ার যন্ত্রনায় দূরে সরে যান। তাদের মতে, রাজনীতিকরা নির্বাচন করবে এটা স্বাভাবিক হলেও অন্য সেক্টরের লোকজনও কদাচিৎ সুযোগ নিতে আসে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচন পাগল থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, যখন নির্বাচন আসে তখন এমন পাগলের সংখ্যা বাড়ে।
 

সম্পর্কিত বিষয়:

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন