শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

হালিম আজাদ ও সামেদ আলী বাহিনীর সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ সহ আহত ১০, ৪০ টেটা উদ্ধার

প্রকাশ:১৬:৩৮,১০ অক্টোবর ২০২৬

হালিম আজাদ ও সামেদ আলী বাহিনীর সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ সহ আহত ১০, ৪০ টেটা উদ্ধার

.

ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ বাহিনীর সাথে সামেদ আলী বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হৃদয় ও টেঁটাবিদ্ধ রাজুর নাম পাওয়া গেছে।  আহত কয়েকজনকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। হৃদয় ও রাজুকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের আকবরনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় আতংক বিরাজ করছে।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ৪০টি টেটা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্তাবলী ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইটভাটায় চলে নিরব চাঁদাবাজি ও কমিশন বাণিজ্য।


 গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের কাছে চলে আসে নিয়ন্ত্রণ । সম্প্রতি সামেদ আলী এলাকায় ফিরে এসে এসব ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে বক্তাবলী খেয়া ঘাটে খিচুড়ি রান্না করে দলবল নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে সামেদ আলীর এলাকা আকবর নগরে মহড়া দিতে যায় হালিম আজাদ বাহিনী । এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পক্ষ আরেকপক্ষের উপর হামলা করে। এসময় সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ হন৷ 

গুলিবিদ্ধ হৃদয় জানান, আমি বাসা থেকে বের হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। এ সময় বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হালিম আজাদ তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে গুলি করে বলে দাবি করেছে হৃদয়।

স্থানীয়দের দাবি, ইট ভাটায় চাঁদাবাজি, মাটি ও শ্রমিক সরবরাহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি কমিশনভিত্তিক বাণিজ্য চলে আসছে এখানে। মাটি সরবরাহ থেকে শুরু করে শ্রমিক সরবরাহ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে কমিশন নেয়ার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় বক্তাবলী বাজারে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে হালিম আজাদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
 
তবে শনিবারের সংঘর্ষের বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শামিম হোসেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন