শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওসি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ:২১:৫৯,১৫ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওসি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

.

৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বন্দর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ফখরুদ্দীন ভূঞা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) কর্মরত। এর আগে ২০২০-২১ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ওসি এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। নারায়ণগঞ্জে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে যুবদলকর্মী শাওন নিহত হওয়ার সময়ও তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। মামলার অপর আসামি তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানম বর্তমানে ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকার সৌহার্দ্য টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ফখরুদ্দীন ভূঞা অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করতে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। এর আগে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি জাহানারা খানমকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয় দুদক। ১৭ জানুয়ারি স্ত্রীর পক্ষে ফখরুদ্দীন ভূঞা বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন এবং ১০ মার্চ জাহানারা খানম তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়দেনা ও আয়ের উৎসের হিসাব জমা দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে জাহানারা খানমের নামে ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ৭৭৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। ঋণ বাদ দেওয়ার পর তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪২ টাকা। দাখিল করা হিসাবের সাথে এই নিট সম্পদের কোনো গরমিল পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৪ টাকা এবং একই সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ টাকা।

সার্বিক হিসাব পর্যালোচনা করে দুদক জাহানারা খানমের অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই ঘটনায় জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় এবং তাঁর স্বামী ফখরুদ্দীন ভূঞার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন