শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

জিয়াউল ইসলাম কাজল ও আতিকুল ইসলাম মুন্নার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ:১৯:৩৪,১৭ অক্টোবর ২০২৬

জিয়াউল ইসলাম কাজল ও আতিকুল ইসলাম মুন্নার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

.

আজ বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ও আবৃত্তি শিল্পী জিয়াউল ইসলাম কাজল এবং সদস্য ও নাট্যকর্মী আতিকুল ইসলাম মুন্নার মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট মানববন্ধনের আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, উপদেষ্টা এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, সহ সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল ও শিল্পী অমল আকাশ।


রফিউর রাব্বি বলেন, আমরা দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য, একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য, বৈষম্য মুক্ত একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য চব্বিশের ছাত্র গণআন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। সে আন্দোলনে সবার মুখে স্লোগান ছিল “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”। কিন্তু জাস্টিস প্রতিষ্ঠিত হলো না, শেখ হাসিনার ধ্বংস করে যাওয়া বিচার ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন হলো না। রাজনীতির দুষ্টচক্র থেকে বিচার ব্যবস্থা মুক্ত হয় নাই। শেখ হাসিনার দীর্ঘ সময়ে তার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট রাজপথে আন্দোলন করেছে, আন্দোলন করতে গিয়ে জোট বিভিন্ন ভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। কাজল সে আন্দোলনে সব সময় যুক্ত ছিল। চব্বিশের গণআন্দোলনের সময় কাজল জোটের সভাপতি হিসেবে আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে আপনারা কে কী ভূমিকায় ছিলেন, কি কি করেছেন তা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনে করেন। ওসমান পরিবারের লোকদের কারা দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করেছে, এখনো পর্যন্ত তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য কারা দেখভাল করছে তা আমরা জানি, গোয়েন্দা সংস্থাও জানে। তিনি বলেন, কাজল আইনজীবি হিসেবে যে কোন দলের নেতা-কর্মীদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াতে পারে। এটা কখনো অপরাধ হতে পারে না। সেখানে রাজনৈতিক স্লোগানের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। স্লোগান দেয়া যদি অপরাধ হয়ে থাকে কাজল সে কারণে অপরাধী কেন হবে? আর তার ভাই মুন্না একজন নাট্য-কর্মী, নিরীহ ছেলে। কোন রাজনীতির সাথে বা সেই ঘটনার সাথে সে কোনভাবে যুক্ত না হয়েও কেন কারাগারে যাবে? তিনি বলেন, আমাদেরকে সরকারের প্রতিপক্ষ বানাতে যাবেন না, তা কারো জন্যেই ভালো হবে না। এ বিচার ব্যবস্থাতো আমরা চাই নি। বিচার ব্যবস্থাকে ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার করার এ গণবিরোধী প্রক্রিয়ার আমরা পরিবর্তন চাই। অবিলম্বে কাজল ও মুন্নার মুক্তি দিতে হবে। 


মানববন্ধনে প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, গত ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়রের আদালতে জামিন নেয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও তার ভাই আতিকুল ইসলাম মুন্না এবং সংশ্লিষ্ট আরেকজন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে পূর্বে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ সব ঘটনার সাথে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই। আদালত যদি দীর্ঘ দিনের সেই রাজনীতির বৃত্তে আটকে থাকে তবে সাধারণ মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে, বিচারিক ব্যবস্থা কিতর্কিত হবে।
 

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন