শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:২১:৩৭,১৭ অক্টোবর ২০২৬
.
নারায়ণগঞ্জে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। শনিবার নগরীর ঐতিহ্যবাহী আমলাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এই কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ প্রাচীনকাল থেকেই ঐতিহ্যবাহী বন্দরনগরী ও পাটশিল্পের প্রধান কেন্দ্র ছিল। পাটশিল্পের ওপর ভিত্তি করেই সারা দেশে এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। শিল্পভিত্তিক সেই ঐতিহ্যের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের মানুষ যেভাবে সব ধর্মের শান্তির বার্তা নিয়ে একসূত্রে বসবাস করে আসছে, সেই সম্প্রীতির মেলবন্ধন সামনেও অব্যাহত রাখতে হবে।
আজকের শুভ দিনে নারায়ণগঞ্জবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শান্তির ঐতিহ্য রক্ষার শপথ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে নয়, বরং সবাই মিলে পূজার আনন্দ ও উৎসব ভাগ করে নিতে তিনি উপস্থিত হয়েছেন।
শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়ার মূল তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আবহমানকাল ধরে পৃথিবীতে সততার সঙ্গে মিথ্যা এবং সুরের সঙ্গে অসুরের দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে। কেবল উৎসব উদযাপনেই দুর্গাপূজার শিক্ষা সীমাবদ্ধ নয়। এ পূজা অন্যায়কে পরাভূত করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বার্তা দেয়। একইসঙ্গে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। এই মূল দর্শনে গুরুত্ব দিলেই পূজার প্রকৃত সার্থকতা আসবে।
দুর্গাদেবীর বিভিন্ন নাম ও রূপের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেবীকে মহিষাসুরমর্দিনী বলা হয়, যা মূলত অশুভশক্তিকে ধ্বংস করে শুভশক্তিকে জয়ের প্রতীক। আর দশভুজার দশ হাতের অস্ত্র প্রতীকী অর্থে সমাজ থেকে অন্যায় দূর করার তাগিদ দেয়। পূজার আয়োজনের ভেতর থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ না করা গেলে আনন্দ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য অধরা থেকে যাবে।
গত বছরের মতো এবারও পূজার সূচনাতে আমলাপাড়া মণ্ডপে আসার স্মৃতি উল্লেখ করে মঈন খান জানান, চান্দ্র পঞ্জিকার গণনার কারণে এবার ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দুর্গোৎসবের আনন্দে বাড়তি একদিন সময় পাচ্ছেন।
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা এবং সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যান্যরা সঙ্গে ছিলেন।