শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির এ্যাকশন শুরু কবে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ:১৯:৪৪,২০ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির এ্যাকশন শুরু কবে

.

ঢাকায় ইশরাক কাণ্ডের পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কবে এ্যাকশন শুরু হবে এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। এ অঞ্চলে কেউ হাকডাক করে, কেউ নীরবে চাঁদাবাজি করছে, কেউ গুন্ডামিতে জড়িয়ে দলের সুনাম নষ্ট করছে। কেউ আবার অনুগত সন্ত্রাসী দিয়ে দলের মধ্যে প্রতিপক্ষকে হেনস্থা করছে। কেউ আবার টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় শালিশ করেন আগের আমলে পিজা শামীমের মতো। জেলায় এসব অপকর্ম করে বেড়ানো কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি দলটি। তবে দলীয় সূত্র বলছে, অপকর্মের তালিকা রেডি-যে কোন মুহূর্তেই ঝড়ে পড়তে পারে যে কেউ।
দলের জেলা ও মহানগর কমিটির একাধিক নেতার মতে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সভা সমাবেশে ডাকলে নানা অযুহাতে নিজেকে সরিয়ে রাখতেন পদ পদবীতে থাকা অনেকে। কেউ কদাচিৎ আসতেন কেউবা কেন্দ্রীয় নেতারা এলে নিজের মুখখানা দেখাতেন। কেউ কেউ তখনকার সরকার দলীয় নেতাদের কাছে মৌখিক মুচলেকা দিয়ে দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। অপরদিকে ত্যাগী নেতাকর্মীরা একের পর এক মামলার শিকার হয়েছেন। থাকতে পারেননি বাড়ি ঘরে, আদালতের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরতে হতো নিয়মিত। অনেকের মতে, এই ত্যাগীরাই দলীয় কর্মকান্ড টিকিয়ে রাখতেন দুঃসময়ে।
তবে আওয়ামীলীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর হঠাৎ নেতার সংখ্যা বেড়ে যায়। দল-বল নিয়ে নানা সেক্টর দখল করতে শুরু করে তারা। বাড়িঘর, জায়গা জমি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে মেতে উঠে নিলজ্জের মতো। আওয়ামীলীগের টাকাওয়ালাদের শেল্টার দিয়ে কামিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। কেউ কেউ আওয়ামীলীগের সাথে মিলে মিশে বাণিজ্য শুরু করে। নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এ চিত্র আরও বেড়ে যায়। 
নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ না মানায় কয়েকজন নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে একাধিক নেতাকে দল বাদ দিলেও পরে ‘দোষ’ প্রমান না হওয়ায় তাদের দলে নেয়া হয়। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে দলীয় কোন্দল, দলের নেতাকে হেনস্থা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠছে কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে। কেউ কেউ জনপ্রতিনিধি হয়ে স্বজনদের মাতব্বরি করতে দিয়েছে আর তারা যা খুশী তাই করে বেড়াচ্ছে। সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে গোয়েন্দা তালিকায় সেসব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরী হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী কেউ নীরবে চাঁদাবাজি করছে কেউ হাকডাক করেই করছে। এরমধ্যে জনপ্রতিনিধির ভাই থেকে শুরু করে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের পদধারী নেতার নাম রয়েছে। সন্ত্রাসীর তালিকায় আছে কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এমনকি বিএনপি নেতার নাম পর্যন্ত। তবে তাদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেয়া হবে তা এখনো জানা যায়নি।
এদিকে ঢাকায় ইশরাকের ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, নারায়ণগঞ্জে কবে শুরু হবে দলীয় এ্যাকশান। দলের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, তালিকা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। ঠিক কবে শুরু হবে সে বিষয়ে কথা না বললেও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই কঠোর অবস্থানে যাবে দল। দলীয় সূত্র আরও বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে কোন নেতার ব্যক্তি কুকর্মের কারনে দলীয় প্রার্থীর ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এগুচ্ছে বিএনপি।


 

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন