শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:১৮:০০,২৩ অক্টোবর ২০২৬
.
দেড় বছরের বেশী সময় পার হলেও আহ্বায়ক কমিটিকে পূর্নাঙ্গ করতে পারেনি জেলা বিএনপির নেতারা। গঠন করতে পারেনি সাত সাতটি থানার একটি কমিটিও। এ নিয়ে কোন আফসোসও নেই শীর্ষ নেতৃত্বের মাঝে। তারা বলছেন, নির্বাচনের কারনে ধীর গতিতে চলেছে দলীয় কার্যক্রম। দলীয় সূত্র বলছে, এ আহ্বায়ক কমিটি আর পূর্নাঙ্গ কমিটি হবে না। নতুন করে ফের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষনা হবে কেন্দ্র থেকে।
২০২৫ সালের ২৪ মার্চ মামুন মাহমুদকে আহ্বায়ক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্র। এতে প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু ভূঁইয়া) এবং যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় মাশুকুল ইসলাম রাজীব ও শরীফ আহমেদ টুটুল কে। ৩৩ সদস্যের এ কমিটিতে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ছিলেন ১ নম্বর সদস্য।
এ কমিটি গঠনের প্রায় এক বছর পর ২০২৬ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে দিপু ভূঁইয়া দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ১ আসন (রূপগঞ্জ) থেকে সংসদ সদস্য হন। বিএনপি সরকার গঠনের পর চলতি বছর ১৬ মার্চ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হন মামুন মাহমুদ। একই বছর ১১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১ বছরের চুক্তিতে মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করে প্রজ্ঞাপন জারী করে। যদিও তিনি ১৮ আগস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।
আহ্বায়ক কমিটির তিন শীর্ষ নেতা অন্য গুুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় জেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে আর বেশী মাথা ঘামাননি বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, একটি কমিটির ৩ শীর্ষ নেতা যদি অন্যত্র ব্যস্ত হয়ে পড়েন তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়বে তা স্বাভাবিক।
এ নিয়ে কথা হয় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কয়েকজনের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতারা বলেন, থানা বিএনপির কমিটিগুলো তারা দিতে পারেনি। নানা জনের নানা মত থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি শীর্ষ নেতা। তারা আরও জানান, কমিটি গঠন করতে নেতাদের বলা হলেও তাতে তারা কর্ণপাত করেনি। এবং তা শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থতা বলে মনে করেন তারা।
তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ বললেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, উপর থেকে নির্দেশ এলে কমিটি হবে। সেই কমিটি পূর্নাঙ্গ না নতুন আহ্বায়ক কমিটি হবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি এ নেতা। বললেন, পূর্নাঙ্গও হতে পারে আবার নতুনও হতে পারে। সে সিদ্ধান্ত নিবে কেন্দ্র।
থানা কমিটি দিতে না পারার বিষয়ে মামুন মাহমুদ বলেন, সে সময়ে দেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। নির্বাচনে সময় বেশী দিতে হয়েছে যে কারনে সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা ধীর গতিতে চলেছে। এখন কমিটির বিষয়ে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানান তিনি।
এদিকে দলীয় সূত্র বলছে, ৩৩ সদস্যের এ আহ্বায়ক কমিটিকে আর পূর্নাঙ্গ রূপ দিতে নারাজ দল। ইতিমধ্যে এ কমিটির কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন। নির্বাচনের সময়ে বহিস্কার হয়েছে, কেউবা দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করেছে। কেউ কেউ আবার বিতর্কিত হয়েছে নানা কাণ্ডে। দল থেকে বহিস্কার হয়েছেন আবার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে এমন নেতাদের বিষয়েও কেন্দ্র এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাদের ফেরা না না ফেরার বিষয়টিও কমিটি গঠনে প্রভাব ফেলবে।
সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে ফের নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি।