শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৫:১৪,২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।
লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক ইদ্রিস আলীকে অপহরণ করে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন উত্তম সরকার ওরফে সুমন (৪৪) ও মরজিনা বেগম (৩৯)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। এ সময় মরজিনা বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের ইদ্রিস আলী (৫৪) লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে বসবাস করতেন। গত বছরের ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি তিনটি গাড়ি নিয়ে অস্ত্রসহ তার বাসার সামনে যায়। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত একটি ভবনের কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নেয় তারা।
অপহরণের দুই দিন পর ইদ্রিসকে মারধরের ভিডিও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের মোবাইল ফোনে পাঠানো হয়। তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথমে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্বামীকে উদ্ধারের জন্য ফাতেমা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ওই টাকা দেন। পরে আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও ইদ্রিসকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার ডান পা ভেঙে যায়। বন্দি অবস্থায় তাকে দিনে এক প্যাকেট রুটি ও এক বোতল পানি দেওয়া হতো।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, বিভিন্ন সময়ে অপহরণকারীদের মোট ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়। পরে ইদ্রিসকে ত্রিপোলির মদিনা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় গত ২২ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন।
দেশে ফিরে ১৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন ইদ্রিস আলী। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় ১৬ সেপ্টেম্বর পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা এর তদন্তভার নেয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে উত্তম সরকার ওরফে সুমন এবং মরজিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে মরজিনা বেগম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। একই ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।