শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:১৮:৫০,২৭ অক্টোবর ২০২৬
.
ঘটনার সূত্রপাত হাত উঁচিয়ে একটি বাড়ি দেখানোকে নিয়ে। এক ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন, আহসান হাবীবের বাড়ি কোনটা জানতে চাইলে ব্যবসায়ী মাসুদ রানা তা দেখিয়ে দেন। বিষয়টি নজরে পড়ে অল্পদূরে লোকজন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদের। তিনি দ্রুত ছুটে এসে মাসুদ রানার উপর হামলে পড়ে। তাকে ইচ্ছেমতো মারধর করে। এ সময়ে চারপাশে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো রিয়াদের লোকেরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দেয়ার সময়ে হু হু করে কাঁদছিলেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাফি উদ্দিন রিয়াদ।
ঘটনার পেছনে ঘটনা
যে বাড়ি নিয়ে এ অঘটন সে বাড়ির মালিক হলেন আওয়ামীলীগ নেতা আহসান হাবীব। তবে বাড়িটি এখন যুবদল নেতা রিয়াদের দখলে। দেওভোগের ওই বাড়ি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দখল করে সে অফিস করেছে বলে থানায় করা অভিযোগে জানানো হয়েছে। নিজের বাড়ি বিক্রি করতে আহসান হাবীব লোকজনকে বলেছে। বাড়ি কিনতে ক্রেতা ও দালালরা নিয়মিত আসে। ২৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১ টার সময়ে মাসুদ রানা যখন ওষধ কিনতে যাচ্ছিলেন তখন তেমনিই একজন বাড়িটি চিনতে তার কাছে প্রশ্ন করে। আর এর জবাব দেয়াই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।
মাসুদ রানা কে
ভুক্তভোগী মাসুদ রানা নিজে কোন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তার স্ত্রী নাহার সুলতানা নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সংবাদ সম্মেলনে নাহার জানান, রাশিদা জামালের হাত ধরেই তার রাজনীতিতে আসা। রাশিদা জামাল হলেন যুবদলের রিয়াদের মা। রিয়াদের বাবা জামাল উদ্দিন কালুও বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
নাহার সুলতানা যা বললেন
সংবাদ সম্মেলনে নাহার সুলতানা জানান, স্বামীকে মারধরের পর রিয়াদকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমার উপর ক্ষেপে যায়। ১০/১৫ জন নিয়ে তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে। পরে হুমকি দেয় যদি আমরা এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করি তবে আমাদের গুম ও হত্যা করবে। নগর মহিলাদল নেত্রি নাহার সুলতানা আরও বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আমি গর্ভবস্থায় জেল খেটেছি। অথচ আমার দল যখন ক্ষমতায় তখন আমাদেরকে এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে হলো। তিনি বলেন, ঘটনার পর আমি আশা করেছিলাম আমার নেত্রি রাশিদা জামাল তার ছেলের এ অপকর্মকে প্রশ্রয় দিবেন না। তিনি হয়তো দু:খ প্রকাশ করবেন। তবে তিনি আসেননি।
নাহার সুলতানার অভিযোগ, রিয়াদ ও তার মা রাশিদা জামাল এখন দেওভোগ গার্মেন্টসগলির আতঙ্ক। তারা মা ছেলে মিলে গ্রেপ্তার বাণিজ্য করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাহার সুলতানা। সাথে ছিলেন তার স্বামী ভুক্তভোগী মাসুদ রানা ও মেয়ে জয়া।
রাফি উদ্দিন রিয়াদের বক্তব্য
নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহানগর যুবদলের সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদ। তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে মুঠোফোনে জানান, আহসান হাবীবের বাড়িতে মাসিক ভাড়া নিয়ে আমরা অফিস করেছি। বাড়ি বিক্রি হবে এবং তা পারিবারিকভাবে তারা কিনতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করে রিয়াদ বলেন, বাড়ি বিক্রির বিষয়ে আহসান হাবীবের স্ত্রীর সঙ্গে তাদের কথাবার্তা চলছে।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে রিয়াদ বলেন, এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। মাসুদ রানা ওই বাড়ির পার্টি দেখানোর জন্য আমাদের বাড়ির ভিতর ঢুকলে আমরা তাকে বের করে দেই। তিনি চ্যালেঞ্জ করেন, মারধরের ভিডিও দেখাক। তার মতে, এক ব্যক্তির ইন্ধনে আওয়ামীলীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।