শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:১৩:২৯,২৮ অক্টোবর ২০২৬
.
ইউনিয়ন নির্বাচন ও দলীয় কোন্দলের কারনেই আড়াইহাজার বিএনপির রাজনীতির স্লোগান মাস্টার খ্যাত জহির ফকির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামীলীগ আমলে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তার পক্ষ নিয়েছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ। জহিরকে আজাদের লোক বলেই মনে করে রাজনীতি অঙ্গনের লোকজন। তবে যারা খুন করেছে তারা কার লোক এ প্রশ্ন এখন ঘুরছে নেতাকর্মীদের মনে। স্থানীয়রা জানান, আড়াইহাজারে অতীতে আওয়ামীলীগের নজরুল ইসলাম বাবুর লোক ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সবাই বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদের লোক হিসেবেই পরিচিত। এ নিয়ে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের মোবাইল ফোনে কয়েকদিন কল দিলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি জহির ফকির বাস করতেন মুন্সিগঞ্জ সীমানার সাথে সোনারগাঁয়ের চর হোগলা গ্রামের বোনের বাড়িতে। এখানেই তার ছোট একটা ওষধের ফার্মেসী ছিলো। এখানে তার কোন শত্রু ছিলো না। তার স্বজনরা বলছেন, দল ক্ষমতায় আসার আগেই ৫ আগস্টের পর যেখানে দলের দুর্নাম করে কোন কোন নেতা দেদারছে অর্থ কামাই করেছে সেখানে জহির একটি ফার্মেসী চালিয়ে জীবন যাপন করতো। রাজনীতির জন্য তিনি বিয়ে করে সংসারী হননি। আর এ রাজনীতিই তার জীবন কেঁড়ে নিলো।
নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দল সভাপতি রহিমা শরীফ মায়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,
মাঝে মাঝে নিজেদেরকে বড় অপরাধী মনে হয়—রাজনীতির এই কঠিন পথে এসে কি আমরা আমাদের সহযোদ্ধাদের এমন নির্মম পরিণতি দেখার জন্যই লড়াই করেছিলাম?
কালা পাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সংগ্রামী সভাপতি প্রিয় জহির ছিল স্লোগান মাস্টার। খুব ভালো একজন মানুষ। দলের চরম দুঃসময়ে তাঁর কণ্ঠের স্লোগান আমাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নতুন সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাত। ব্যক্তিগতভাবেও ছোটভাইটার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো। খুব বিনয়ী।
যে মানুষগুলো দুঃসময়ে দলের জন্য নিজেদের জীবন, পরিবার ও সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে লড়াই করেছেন, আজ সুসময়ে তাঁদের এমন নির্মম পরিণতি মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। যে সহযোদ্ধার কণ্ঠ একদিন রাজপথে আমাদের সাহস জোগাত, আজ তাঁর মৃত্যুর সংবাদ হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে।
প্রশ্ন জাগে—দুঃসময়ে যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন, তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা কি আমরা নিশ্চিত করতে পারব না? রাজনীতি কি শুধু সুসময়ের প্রাপ্তি, নাকি দুঃসময়ের সহযোদ্ধাদের আগলে রাখারও নাম ?
রহিমা শরীফের মতো এমন প্রশ্ন এখন দলেরই অনেক নেতাকর্মীর মুখে মুখে। তারা বলছেন, নজরুল ইসলাম আজাদ কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি পুরো জেলায় প্রভাবশালী একজন। তার মতো ক্ষমতাবান সংসদ সদস্য থাকতে আড়াইহাজারে দলের দু:সময়ের সাথীকে সু সময়ে কেন প্রাণ দিতে হলো ?
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এর মুঠো ফোন, হোয়াটসএ্যাপে কল ও বার্তা পাঠালেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে নিহত জহিরকে আওয়ামীলীগ আমলে তখনকার এমপি বাবুর প্রার্থী আলোচিত স্বপন চেয়ারম্যানের বিপরীতে আজাদ প্রার্থী করেছিলেন। জহির আজাদের রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনে কেউ কেউ বিরোধিতা করলেও বর্তমানে আড়াইহাজারে নজরুল ইসলাম আজাদের বিপক্ষে বিএনপিতে কেউ নেই।
জহিরের ভাগনে ইসমাইল হোসেন ও বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে জহিরের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মোবারক হোসাইনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর আগেও মোবারক তার লোকজন নিয়ে কয়েকবার জহিরের ওপর হামলা করেছিলেন। বুধবার রাতে মোবারক ও তার লোকজন আড়াইহাজার থেকে এসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জহিরকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ বলেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে স্পীড বোটে করে ৪ জন চর হোগলা বালুঘাটে নামে। এর কিছুক্ষন পর আরও ৬ থেকে ৭ জন ওই ঘাটে আসে। তারাই জহিরকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের এ বর্ণনায় বুঝা যায়, পরিকল্পিতভাবে জহিরকে হত্যা করা হয়েছে। আগে থেকে রেকি করে এলাকার অবস্থান দেখে নেয় খুনিরা।