শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৯:২৯,২৮ অক্টোবর ২০২৬
.
পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জের বর্তমান সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারিকুল সুজন। তিনি বলেন, আয়তনের তুলনায় নারায়ণগঞ্জ শহরে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। নগরীর সীমিত সড়কগুলোর বড় একটি অংশ হকারদের দখলে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অটোরিকশার চলাচল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, জনবল সংকট এবং সড়কের অব্যবস্থাপনা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শহরে বিপুল পরিমাণ অটোরিকশা চলাচল করলেও সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগের কারণে এগুলো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে এখনও পরিবহন স্ট্যান্ড বহাল থাকায় পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সমবায় মার্কেট এলাকায় মুন্সীগঞ্জের লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড এখনও অবস্থান করছে, যা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা জোর দিয়ে বলেন, কেবল চালকদের সচেতন করে সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব নয়; এর জন্য পরিবহন খাতের সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। রাষ্ট্রে সুশাসন, নীতি-নৈতিকতা ও সততার চর্চা প্রতিষ্ঠিত হলে পরিবহন খাতেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পরিবহন খাতসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জের সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং একটি নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।