শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ:১৯:১২,২৯ অক্টোবর ২০২৬
.
এক সময়ে প্রভাবশালী ছিলেন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে। ক্ষমতার দম্ভে কেউ কেউ তখন যা খুশী তা করেছেন। কারোটা অপকর্ম চোখে পড়ে খুব কারোরটা আবার আড়ালে রয়ে গেছে। কারো গায়ে গডফাদার, চাঁদাবাজ যুক্ত হয়েছে, কেউ আবার নীরবে আখের গুছিয়ে ভদ্রলোক সেজেই আছেন। দল থেকে বর্তমানে বহিস্কৃত এ নেতারা ফের ফিরছেন বলে মাঝে মধ্যে গুঞ্জন উঠে। তাদের ঘনিষ্ঠ, অনুগত ও সুবিধাভোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এমন প্রচার চালান। এ নিয়ে মাঠেও কথা উঠে। অনেকে জানতে চান, আসলেই কি তারা ফিরছে ?
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দল অংশ না নিলেও মেয়র পদে প্রার্থী হন তৈমূর আলম খন্দকার। এর রেশ ধরে তাকে ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বিএনপি বহিস্কার করে। এরপর শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে তৃণমূল বিএনপি নামে এক দল গঠন করা হয় এবং তা কিং পার্টি হিসেবে পরিচিতি পায়। তৈমূর আলম সে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব হন তবে এরপরও তার চির স্বপ্ন জনপ্রতিনিধি হতে পারেননি। গুঞ্জন রয়েছে, এখনো বিএনপিতে ফেরার আশায় আছেন তিনি।
সব শেষ সংসদ নির্বাচনে জেলায় বিএনপির রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। তারা হলেন, সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। দল তাদের মনোনয়ন না দেয়ায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন এবং পরাজিত হন। তাদের প্রাপ্ত ভোটের অংকও ছিলো লজ্জাজনক। দল থেকে বহিস্কার হলেও কতিপয় নেতা এখনও দলীয় অনেক সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। কারো কারো প্রভাবও রয়েছে বেশ এমনকি তাদের বলয়ের নেতাকর্মীর সংখাও কম নয়। এ নেতাকর্মীরাই বিভিন্ন সময়ে বলে বেড়ান, আমার নেতা ফিরছে। দল তাকে আবার নিবে। কেউ কেউ প্রচার চালন, দলের প্রয়োজনেই তাদের বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে আবার দলে ফিরবে। কেউতো আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, শুধু ফিরবে না বড় ধরনের পদ নিয়ে ফিরবে।
রাজনীতি সচেতন মহলের মতে, এ ফেরার প্রচারণা এক ধরনের কৌশল। এতে অনুগত ও বলয়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা পাশাপাশি প্রতিপক্ষকেও চাপে রাখা যায়।
দলীয় সূত্র জানায়, বহিস্কার হওয়া অনেকেই দলে ফেরার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। তবে সবাই জোরালোভাবে তা করছেন না। কোন নেতা নিজে না চাইলেও তার বলয়ের নেতাকর্মীদের কথা চিন্তা করে দলে ফিরতে চাইছেন। কেউ আবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও ফেরার চেষ্টা করবেন না থাকলে চুপচাপ থাকবেন।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, দল এখন ক্ষমতায় তাই কেউ ফিরতে চাইলেই সহজে তা পারবেন না। দলের প্রয়োজনে কাকে দরকার সে চিন্তা থেকে হয়তো দল কাউকে নিবে। তবে সু সময়ে দলের পাল্লা ভারীর খুব প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণত দল রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় থাকলে এমন নেতাদের ফের দলে ভিড়ায়। তাদের মতে, ক্ষমতাসীন দলে ফিরতে সবাই চায়। আর এ কারনেই নিজেরাই অনুগতদের দিয়ে প্রচার চালায়।
এদিকে প্রভাবশালী একজন সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠজন জানান, তার নেতা আপাতত দলে ভিড়তে চাইছেন না। আরেক ধন্যাঢ্য রাজনীতিকের বলয়ের একজন নেতা জানান, তিনি চাইছেন না আর রাজনীতি করতে। তবে নেতাকর্মীদের চাপ রয়েছে। অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেতা বহিস্কার হলে বলয়ের নেতাকর্মীরাও বিপাকে পড়ে। তাই তারা বিভিন্ন সময়ে বলে বেড়ায়, আবার ফিরছে আমাদের নেতা। তবে এ ফেরার গল্প কবে ফুরাবে তা জানে না কেউ।