শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১২:০১,২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এনসিপি নেতার ওপর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ওপর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আটটার দিকে বক্তাবলী ইউনিয়নের বক্তাবলী বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হালিম আজাদ।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এনসিপি জেলা কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তাওহীদ। তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির প্রচার উপকমিটির সম্পাদক সোনিয়া আক্তার লুবনা।
তিনি জানান, বক্তাবলী বাজার এলাকায় স্থানীয় এক নেতার বাড়িতে তাদের সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও বাজারে কথা বলেন এনসিপির নেতারা। সে সময় স্থানীয় লোকজন এনসিপির নেতাকর্মীদের কাছে বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটা নিয়ে অভিযোগ করেন।
মাটি কাটার বিষয়ে তখন এনসিপির নেতারা প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। এই বক্তব্য রাখার জেরে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় এনসিপি নেতা তাওহীদুল গুরুতর আহত হন এবং তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নির্দেশে তার ছোটভাই ইয়াসিন ও অনুসারী নেতাকর্মীরা এই হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন এনসিপি নেতারা।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে শান্তিপূর্ণ মিটিংয়ে এনসিপির নেতা তাওহীদসহ নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি সন্ত্রাসীদের ন্যাক্কারজনক হামলার জবাব নেওয়া হবে। হামলাকারী বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় না আনা হলে সমস্ত দায়দায়িত্ব প্রশাসন ও সরকারি দলকে নিতে হবে।
বিএনপি নেতা হালিম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে কিছু লোকজনের ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। সেখানে তাওহীদ আহত হয়েছেন বলেও তিনি জেনেছেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে তিনি কিংবা তাদের কেউ জড়িত নন এবং কার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে তাও তিনি জানেন না। তিনি নিজেও বিষয়টি খোঁজ করছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের সরকারি মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। তবে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে এবং তদন্ত করে আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।