শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১২:২২,১ অক্টোবর ২০২৬
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান
নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত এবং নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে মূল কারণ হলো কিশোর অপরাধ, মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিং। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি।
সম্প্রতি জেলায় কিশোর অপরাধের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে পুলিশ সুপার এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দিকনির্দেশনার ঘাটতি, পারিবারিক অসচেতনতা, কুসঙ্গ ও সামাজিক বৈষম্য কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একদিকে দারিদ্র্যের কারণে মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকা, অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ লাভ এবং অভিভাবকের তদারকি না থাকা, উভয় কারণেই কিশোররা মাদকে আসক্ত হচ্ছে এবং অপরাধে জড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নৈতিক শিক্ষার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং পারিবারিক নজরদারির ঘাটতিও কিশোর অপরাধ বাড়ার বড় কারণ। মাদকাসক্ত হয়ে কিশোররা মারাত্মক অপরাধে যুক্ত হচ্ছে, যা দ্রুত বন্ধ না করলে সমাজে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবারের দায়িত্বকে প্রধান উল্লেখ করে পুলিশ সুপার অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সন্তান কার সাথে সময় কাটাচ্ছে এবং কী করছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। পরিবার থেকে ভালো নৈতিক শিক্ষা ও সঠিক পরিচর্যা পেলে কিশোররা অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বই পড়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এছাড়া ছিন্নমূল শিশুদের পুনর্বাসন এবং অপরাধে যুক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কিশোর অপরাধ দমন কেবল পুলিশের একার কাজ নয়, এতে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। কোথাও কোনো অপরাধের আশঙ্কা থাকলে বা কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য জানা থাকলে অবিলম্বে পুলিশকে জানানোর জন্য জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।