শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৪:৪৯,১ অক্টোবর ২০২৬
চলতি বছর জেলায় আক্রান্ত সাড়ে ২৩ শত ছাড়িয়েছে, শয্যা না পেয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।
নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে তীব্র শয্যাসঙ্কট দেখা দিয়েছে। শয্যা খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দা ও মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী।
সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বারান্দা ও মেঝেতে একাধিক রোগীকে চিকিৎসাধীন থাকতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে একজন স্ত্রীর প্রসবের জন্য হাসপাতালে এসে নিজে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালটিতে ২৩ জনেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগী প্রতিনিয়ত বাড়ায় বাধ্য হয়ে সবাইকে শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নার্সরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই কেবল ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। যা আগস্টে ছিল ১১৯ জন এবং জুলাইয়ে ছিল ৩৫ জন। চলতি বছর হাসপাতালটি থেকে মোট ৩৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নাজমুল হাসান বিপুল জানান, ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগীর চাপ অনেক বেশি হলেও কাউকেই চিকিৎসা না দিয়ে ফেরানো হচ্ছে না। একইসঙ্গে সঠিকভাবে মশারি না টাঙানো এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবকে ডেঙ্গু বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার ৩৮৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টাতেই জেলায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩৩ জন। গত ২০২৫ সালের পুরো বছরের আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৯৮ জন, যা এ বছরের প্রথম নয় মাসেই প্রায় স্পর্শ করে ফেলেছে।
অফিশিয়াল হিসাবে জেলায় এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। জেলার সীমানার বাইরে মৃত্যু হওয়ায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। মারা যাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের চেইনম্যান আবু ছিদ্দিক এবং সিটি করপোরেশনের সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এলাকার গৃহবধূ আশা বেগমসহ অন্য আরেক নারী।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় খোদ নাসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ মোস্তফা আলীও আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নাসিকের আরেক মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম জানান, সিটি এলাকায় মশক নিধন, ওষুধ প্রয়োগ, জরিমানা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ১০০ শয্যার ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। স্থানসংকুলান না হলেও চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সর্বস্তরের নাগরিকদের নিজস্ব জায়গা থেকে সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।