শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:২০:৩৩,২৯ অক্টোবর ২০২৬
.
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার পাঁচ দিন পার হলেও প্রধান আসামি ব্যতীত বাকি ছয় আসামি গ্রেপ্তার হননি। ঘটনার পরপরই ফারজানার স্বামী নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্য আসামিরা অধরা থাকায় মামলার তদন্ত ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। পুলিশের তরফ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা ও দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারটির।
পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ কোনো আত্মহত্যা নয়। ফারজানাকে যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তার বাবা-মা।
এর আগে, গত ২৪ অক্টোবর (শনিবার) রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী নাজমুল একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি যথাক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। ঘটনার পরদিন ২৫ অক্টোবর রাতে নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় জামাতাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন, যার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম জানান, তারা শুরু থেকেই হত্যা মামলা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তী সময়ে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নেওয়া হয়। ঘটনার সময় ঘরের দরজা খোলা থাকা এবং চিরকুট উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, এমনকি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মিলছে না। তিনি বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফারজানার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানান।
ফারজানার মা শরিফা আক্তারও মেয়ের আত্মহত্যার বিষয়টি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর দিন দুপুরেও ফারজানার সঙ্গে তার স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছিল এবং মেয়ে তাকে তাদের বাসায় যেতে বলেছিল। এর কিছুক্ষণ পরই মৃত্যুর খবর আসায় পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করছেন তিনি।