শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:২২:১৭,৩০ অক্টোবর ২০২৬
.
আড়াইহাজারে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নামিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপার অলংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে মারধর করে হাতকড়া পরানো হয় এবং চোখ বেঁধে একটি নোয়াহ গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি নগদ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনের সিম নিয়ে তাকে ঢাকা-ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর পূর্ব পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী রামপদ দাস (৪২) আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে আজ (৩০ অক্টোবর) এজাহার দিয়েছেন।
রামপদ দাস নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি নরসিংদী শহরের বাতিলবাড়ী রোডের গেঞ্জিপট্টি মোড়ে ‘নন্দিতা শিল্পালয় অ্যান্ড স্টোর’ নামের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রামপদ দাস তার দোকানের কর্মচারী সাগর দাসকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার কেনেন। কেনাকাটা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা মেঘালয় লাক্সারি বাসে করে গুলিস্তান থেকে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাদের সঙ্গে ছিল প্রায় ৬০ ভরি স্বর্ণ, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২৯০ ভরি রুপার মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে স্বর্ণ ও রুপার মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
এজাহারে বলা হয়, রাত পৌনে ১০টার দিকে বাসটি পুরিন্দা বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশের জ্যাকেট ও হেলমেট পরা চার ব্যক্তি বাসে ওঠেন। তারা রামপদ দাসকে ধরতে এসেছেন বলে পরিচয় দিয়ে তার এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। তিনি বাস থেকে নামতে না চাইলে দুর্বৃত্তরা লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে। পরে টেনেহিঁচড়ে বাস থেকে নামিয়ে একটি নোয়াহ গাড়িতে তুলে নেয়।
গাড়িতে তোলার পর তার দুই চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে দুই হাতে শক্ত করে হাতকড়া পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মারধর ও হত্যার ভয় দেখিয়ে তার কাছে থাকা ৬০ ভরি স্বর্ণ, ২৯০ ভরি রুপা এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তার চোখের বাঁধন ও হাতকড়া খুলে আবার গামছা দিয়ে হাত বেঁধে দেয়। তার মোবাইল ফোন থেকে সিম খুলে ফোনটি তাকে ফেরত দেওয়া হয়। পরে ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর পূর্ব পাশে তাকে নামিয়ে দিয়ে পেছনে তাকালে গুলি করার হুমকি দেয়। এরপর গাড়িটি ঢাকার দিকে চলে যায়।
পরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রামপদ দাস। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে সেখান থেকে নিয়ে যান। তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এজাহারে দুর্বৃত্তদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪৫ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ মাঝারি গড়নের, আবার কেউ স্বাস্থ্যবান ছিলেন। সবার পরনে প্যান্ট-শার্ট ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেট ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী।
দেরীতে থানায় অভিযোগ করার বিষয়ে ভুক্তভোগী রামপদ দাস বলেন, আমাকে মারধর করা হয়েছিলো। আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি তাই থানায় যেতে দেরী হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সবজেল হোসেন, রামপদ দাস নামে একজন আজ (৩০ অক্টোবর) অভিযোগ করেছেন। আমরা তদন্ত করছি।