শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:১২:৫২,৩১ অক্টোবর ২০২৬
.
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালে মাতৃভ্যান চালু করে আলোচিত হতে চেয়েছিলেন নাহিদা বারিক। অনুগত ও ঘনিষ্ঠজনদের দিয়ে করেছিলেন সস্তা প্রচারও। তবে এ মাতৃভ্যানে একজন প্রসুতি মাও উঠেননি বলে জানা গেছে। বরং এ নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) জালিয়াতির অভিযোগে নাহিদা বারিককে ওএসডি করা হয়েছে। এর আগে দুদক মামলা করে তার বিরুদ্ধে।
ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, কয়েকজন ইউএনও নানা কিছু করে আলোচনায় আসেন। তা শুনে নাহিদা বারিকও কিছু একটা করার চিন্তা করেন। পরে তিনি গর্ভবতী মায়েদের প্রসুতির সময়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে মাতৃভ্যান করেন।
সচেতন মহল তখনই এর সমালোচনা করেন। যে শহরের আনাচে কানাচে সেকেন্ডে ব্যাটারি চালিত যানবাহন পাওয়া যায় সেখাে এ মাতৃভ্যান যে কেউ ব্যবহার করবে না তা সহজে সবাই বুঝতে পারলেও নাহিদা বারিক ও তার থেকে সুবিধা নেয়া কিছু লোক অনুধাবন করতে পারেনি। এ মাতৃভ্যানের জন্য চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে চাঁদাবাজিও করেছিলেন নাহিদা বারিক। একজন চেয়ারম্যান এ প্রতিবেদককে তখন জানিয়ে ছিলেন, এসব করার মূল উদ্দেশ্যই চাঁদাবাজি। আর চাঁদাবাজির প্রথম লক্ষ্য হলো ইউনিয়ন চেয়ারম্যান।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিককে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসন ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ফাঁকা থাকা পদে নিয়োগ পাওয়া এ কর্মকর্তাসহ আরো দু’জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে মামলাও করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অনুসন্ধানের সূত্র ধরেই তাদের ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।
নাহিদা বারিক সর্বশেষ বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব পদে কর্মরত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে দুদক চাকরিতে নিয়োগের সময় জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে মামলা করে। দুদকের অনুসন্ধান বলছে, নাহিদা বারিকসহ ওই তিন কর্মকর্তা ২৯তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান। কিন্তু তাদের কেউ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির আবেদন না করলেও পরে তাদের ওই কোটা শূণ্য থাকা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুদক বলছে, ২০১১ সালের ১০ জুলাই ২৯তম বিসিএসে নিয়োগের প্রথম গেজেট প্রকাশ হয়। ওই গ্যাজেটে ১৮৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, যেখানে নাহিদাসহ অপর দু’জন কর্মকর্তার নাম ছিল না। প্রথম পর্যায়ের নিয়োগের পর উপযুক্ত প্রার্থী না থাকা মুক্তিযোদ্ধা কোটার ১৪টি পদ ফাঁকা ছিল। ওই ফাঁকা পদেই ১৩ মাস পর নিয়োগ পান নাহিদা বারিকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা।
নাহিদা বারিক নারায়ণগঞ্জ জেলায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। বন্দর ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলে এসিল্যান্ড ছিলেন। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হন। ২০২১ সালের ২১ মার্চ তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র পদ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।