শুক্রবার   ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২২ কার্তিক ১৪৩৩

মাসুদ টাকা দেয় ক্যা ?

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ:১৯:২০,৬ নভেম্বর ২০২৬

মাসুদ টাকা দেয় ক্যা ?

.

এবার পত্রিকা, সুশীলদেরকে এক হাত নিয়েছেন শিল্পপতি মাসুদ্দাজামান, যিনি মডেল মাসুদ নামে পরিচিত। তাদের টাকা না দিলে শ্রমিকদের বেতন ৪০ হাজার টাকা দিতে পারতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তার এমন বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে কোন পত্রিকা এবং সুশীল সমাজের কাদের টাকা দেন মাসুদ। আর কেনইবা দেন ? তার এমন কী আছে যা ঢাকতে তাকে টাকা দিতে হয়।

সমাজে ভূমিদস্যু, নদী খেকোরা সরকারী জায়গা দখল করতে এক শ্রেনীর পয়সাওয়ালা নানাজনকে লালন পালন করেন। নদীর জায়গা দখল করে ব্যবসা, বাণিজ্যিক পার্ক নির্মাণ করে তা রক্ষা করতে কতিপয় শিল্পপতি সুশীল নামে পরিচিত কতিপয় সমাজকর্মীর দ্বারস্থ হন। কেউ কেউ কোন মিডিয়া ম্যানেজড করেন। মোটা অংকের পয়সা ছিটিয়ে সরকারী প্রকল্প থামানোর চেষ্টাও করেন। কেউ কেউ তাদের কাছে গিয়ে পয়সা নেন, কোন কোন সময়ে আবার তারা ছুটে আসেন লোভনীয় অফার নিয়ে। এরপর কিছু গণমাধ্যমে লেখালেখি, সভা- সমাবেশ করে ভূমিদস্যুদের পক্ষ নেন সুবিধাভোগীরা। তারা প্রশাসনে গিয়েও চাপ সৃষ্টি করেন, যাতে করে মুখোশধারীরা উপক...ত হয়।
স্থানীয়দের কাছে মাসুদুজ্জামান একজন সফল ব্যবসায়ী। পোশাক ব্যবসা ছাড়াও শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তিনি একটি ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কেন কথিত সুশীল, পত্রিকায় টাকা ঢালবেন ? 


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মাসুদুজ্জামান প্রথমে চেম্বারের সভাপতি হন। পরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পান। যদিও এ দলের দু:সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে তাকে দেখা যায়নি। প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে তিনি শহর ও বন্দরে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেন। বিভিন্ন সংগঠন, মহল্লা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেদারছে অনুদান দেয়া অর্থাৎ পয়সা বিলানো শুরু করেন। সে সময়ে বিএনপির অনেক নেতাকে তার পাশে দেখা গেছে। তবে তারা পয়সা নিয়েছেন কি-না কা জানা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণাও আগেভাগে জমজমাটভাবে শুরু করেছিলেন মাসুদুজ্জামান। নামের মতো প্রচারণাও তিনি মডেল রূপ দিয়েছিলেন। ভুরিভোজ দিয়েতো তিনি রীতিমতো হৈ চৈ ফেলেছেন। তার ভুরিভোজে গিয়ে পরিচিত অপরিচিত কিংবা অল্প পরিচিত অনেকে ফেসবুকে সেলফি আর ছবির ঝড় তুলে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে কেউ কেউ তখন রসিকতা করে বলেছেন, একদিকে ভুরিভোজ সাথে হরেক রকম ভুরির মেলা বসেছিলো।


এত হৈ চৈ ফেলে হুট করে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন মডেল মাসুদ। কয়েকদিন পর আবার ফেরারও কথাও জানান। তবে ততক্ষনে বল চলে যায় অন্য দিকে, যা আর মাসুদ ধরতে পারেননি। বিএনপির মনোনয়ন  পান তাদের পুরনো বান্ধব আবুল কালাম।
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের ২য় দিনে মডেল মাসুদের  নাম শোনা গিয়েছিলো শ্রমিকদের মাঝে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শ্রমিকরা মডেল গ্রুপের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সেদিকে যচ্ছিলো। তখন খবর পেয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা তা থামায়।  


এরপরই বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চেম্বার্স অব কমার্স ইন্ড্রাষ্ট্রির সভায় বোম ফাটান মডেল মাসুদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে টকশোতে আপনারা বলেন আমরা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে শ্রমিকদের পাওনা দেই না। এটা পত্রিকা বলেন, প্রগতিশীল বলেন, সুশীল বলেন। আপনারা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বলেন, আমরা নিন্দা জানাই। আপনাদেরকে পয়সা না দিলে আমরা শ্রমিকদের ৩০ হাজার না ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম।
তার এমন বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, কোন পত্রিকা, প্রগতিশীল কিংবা সুশীল মাসুদুজ্জামানের কাছ থেকে টাকা নেন ? আর মাসুদুজ্জামান কেন টাকা দেন? নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন আড্ডায় অনেকে স্থানীয় ভাষায় একে অপরকে প্রশ্ন করেছে, মাসুদ টাকা দেয় ক্যা ?
মাসদুজ্জামান কি এ প্রশ্নের উত্তর দিবেন ? তিনি কি তার কাছে সুবিধা নেয়ার লোকজনের তালিকা প্রকাশ করবেন।


 

সম্পর্কিত বিষয়:

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন