শুক্রবার ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২২ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৭:৫৫,৬ নভেম্বর ২০২৬
.
নারায়ণগঞ্জের খুচরা বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে, যা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে সবজির বাজার কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও মুরগির দাম চড়া রয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় অন্যান্য মাছের দাম কিছুটা কমেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল। বাজারে নতুন আলু ৭০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বড় ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি আকারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল, ঢেঁড়শ ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, জলপাই ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে এবং পুরোনো আলু ২৫ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ৪০ টাকায়, দেশি ধনেপাতা ২৫০ টাকা, হাইব্রিড ধনেপাতা ২০০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকের বাজারে লালশাক প্রতি আঁটি ১৫ টাকা, লাউশাক ৫০ টাকা, কলমিশাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, পালংশাক দুই আঁটি ৫০ টাকা এবং ডাঁটাশাক দুই আঁটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম কমলেও মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি সোনালি কক মুরগি ৩৩০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি মুরগির প্রতি কেজির দাম ৬৭০ টাকা। মাছের বাজারে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পোয়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৪০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা এবং কৈ মাছ ২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ছোট মাছের মধ্যে মলা মাছ ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাঁচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে আংশিক স্বস্তি ফিরলেও সামগ্রিক বাজারদরে ক্রেতাদের পুরোপুরি স্বস্তি মেলেনি।