মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:১৮:৩০,৩ নভেম্বর ২০২৬
.
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে গার্মেন্ট শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে শ্রমিক,পুলিশ, সাংবাদিক সহ আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে জালকুঁড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষ চলাকালে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে সড়কে যানবহানে আটকে পড়া মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ৪//৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে পরে ভিডিও এবং ছবি দেখে উস্কানিদাতাদের ধরা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে বেলা সোয়া ৩ টার দিকে মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেটে জড়ো হয় তারা। পরে তারা লিংক রোড অবরোধ করে। এ সময়ে সড়কের দুই পাশে আটকে পড়ে অনেক যানবাহন। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরে যাওয়ার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে টিয়ারসেল ও পরে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময়ে শ্রমিকরা তাদের উদ্দেশ্যে ইট পাটকেল ছুড়ে। এরমধ্যে চলে ধাওয়া পাল্ট ধাওয়া। সংঘর্ষের সময়ে অনেক শ্রমিক সড়ক ত্যাগ করে চলে যায়। প্রায় পৌণে এক ঘন্টা ধরে চলা সংঘর্ষের পর সংঘর্ষে অংশ নেয়া শ্রমিকরাও পিছু হটে। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিল্প পুলিশ-৪ নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, সাধারণ শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর ৪ থেকে ৫ হাজার শ্রমিক ব্যারিকেড ভেঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করে। আমরা তখন বুঝতে পারি তারা কোন সাধারণ শ্রমিক না। এরপর আমরা ফোর্স এপ্লাই করতে বাধ্য হই। আমরা শতাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করি। তাদের ইটপাটকেলে পুলিশের ১০/ ১২ জন সদস্য আহত হয়েছে। আটক আছে ৪/৫ জন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল করছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে একই দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছিলো শ্রমিকরা। তবে সেদিন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আজ সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সড়কে ছিলো যাতে কোন রকম বিশৃঙ্খলা না ঘটে। দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি শ্রমিকরা সড়কে নামেনি।