বুধবার ০৪ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৪:০১,৪ নভেম্বর ২০২৬
.
নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাথে আইনশৃনখলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার সকাল ১০ টায় সদর উপজেলার ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় বেশ কয়েকটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা জড়ো হয়ে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিং রোডের দিকে এগোতে চাইলে প্রথমে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে শ্রমিকরা ঈদ পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
দুপুর পৌনে বারোটা পর্যন্ত পুলিশের সাথে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। শ্রমিকদের দাবি তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ বাধা দিয়েছে। অপরদিকে পুলিশ বলছে গত দুদিন ধরে শ্রমিকদের বোঝানোর পরও তারা বিভিন্ন মানুষের উস্কানিতে বারবার রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই তারা বাধা দিয়েছে। উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করার কারণে পুলিশ অনেকটা বাধ্য হয়ে তাদের উপর এয়ার্সেল রাবার বুলেট ও সাউন্ডগ্রেট মেরে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী দোকানী বলেন, গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা জড়ো হওয়ার পর তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে শ্রমিকেরাও পাল্টা ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারেন।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, সকাল থেকেই বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। প্রথমে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।
মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত আসার পর আন্দোলন করার জন্য শ্রমিকদের অনুরোধ করা হয়েছিল।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিকেরা কথা না শুনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে ওঠার চেষ্টা করেন। তাদের সড়কে ওঠা ঠেকাতে ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। আন্দোলন থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার ও মঙ্গলবারও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। তারা ওই দুই দিন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেয়।