বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩

৬ ইন্ধনদাতা গ্রেপ্তার

ফতুল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ:১৭:১২,৪ নভেম্বর ২০২৬

৬ ইন্ধনদাতা গ্রেপ্তার

.

পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে সংঘাত উসকে দেয়ার অভিযোগে  করা মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ফতুল্লা লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের পুত্র মো. শামীম হাসান(২৮), কোতালেরবাগ বউ বাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের পুত্র মোঃ মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেষন এলাকার বাচ্চু মিয়ার পুত্র মো. ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের পুত্র ইমান ইমন (২৬), কোতালের বাগ এলাকার মৃত লিয়াকত হোসেনের পুত্র শাহিন আহম্মেদ ও কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের প্ত্রু আতিকুর রহমান (২৫)। বুধবার দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ৬ জনকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সংঘাত উসকে দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশের এস,আই মিলন ফকির বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এস,আই শামিম জানান, গ্রেপ্তার ৬ জনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলায় এজাহারনামীয় অপর আসামীদের মধ্যে  উল্লেখযোগ্য হলেন ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার যুবলীগ নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোস্তফা কামাল, কার্যকরী সদস্য মজিবর, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি  টিপু সুলতান, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, রাকিব হোসেন, ওয়াসিম, রতন, মো. রাকিব, ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম। এ ছাড়া প্রজন্মলীগের ফতুল্লা থানা শাখার সহ সভাপতি হিসেবে পরিচিত জনিসহ আরও কয়েকজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল ও ইরান টেক্সটাইল এলাকার আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মডার্ন গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডের শিবু মার্কেট থেকে ফতুল্লা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে।

এজাহারে দাবি করা হয়, বেতন বৃদ্ধির দাবিকে সামনে রেখে শ্রমিকদের সংগঠিত করার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ইন্ধন ও উসকানি ছিল। এর মাধ্যমে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সরকার উৎখাতের চেষ্টা এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পরিকল্পনা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে প্রথমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে টায়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সাইনবোর্ডের দিকে এগিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে । ইটের আঘাতে কনস্টেবল নাঈম ও কনস্টেবল সাগর আহত হন। পাশাপাশি উৎসব ও বন্ধন পরিবহনসহ কয়েকটি যানবাহনের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন গ্যাসগান থেকে মোট ৮৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। 
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উসকানি ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন