রোববার ০১ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ:১৯:০৪,১ নভেম্বর ২০২৬
.
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একাধারে মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন গোলাম দস্তগীর গাজী। তবে এতে তার মন ভরেনি। তিনি তার স্ত্রী হাসিনা গাজীকে তারাব পৌরসভার চেয়ারম্যান করেছিলেন।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা, সোনারগাঁয়ের তখনকার এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা তার স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকতকে সোনারগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। শেষতক নির্বাচনই হয়নি।
আওয়ামীলীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শেষ সরকারে হুইপ, আড়াইহাজারের তখনকার প্রভাবশালী সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর স্ত্রী ডা. সায়মা আফরোজ ইভাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করা হয়েছিলো। উপজেলায় থাকা ২৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশ কমিটিতে বাবু ও তার স্ত্রী ছিলেন।
ক্ষমতার চেয়ারে বসে জনপ্রতিনিধিদের এ বউ প্রীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা উঠেছে। ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ ইউনিটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ ও তার স্ত্রী অধ্যাপক বদরুন্নাহারের থাকা নিয়ে। গত মাসে তার স্ত্রী এ সংস্থার মেম্বার হয়েই গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ নিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা নিজেরাও বিব্রত। তবে কেউ তাদের প্রকাশ করতে রাজি হননি। মহানগর বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বললেন, এ ধারা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে হয়েছে বেশী।
বিষয়টি নিয়ে নাগরিক নেতারাও মুখ খুলতে রাজি নন। এ প্রতিবেদকের সাথে এমন দুইজনের কথা হয়েছে। তারা বলেন, এখন তাদের ভুল ধরালে তারা খুশি হন না বরং ফ্যাসিস্টের দোসর উপাধি লাগিয়ে দেন। দলের অন্য নেতারা যারা এসবে জড়িত না তারা কেন কিছু বলেন না এমন প্রশ্নের জবাবে নাগরিক নেতারা বলেন, বিপক্ষে যায় এমন সত্য কথা বললে তাদের স্বার্থ ছুটে যাবে। বরং মন্দ কাজ করলেও তারা পক্ষেই বলবে, তেল মর্দন করবে।
নাগরিক নেতাদের মতে, স্ত্রীকে খুশী করতে সব স্বামীই চায়। তবে তা নিজের সাধ্য অনুযায়ী। এখন কোন কোন জনপ্রতিনিধি রেওয়াজ তৈরী করতে চাইছেন, নিজেরাও থাকবেন এবং স্ত্রীকেও লাইমলাইটে আনবেন। তবে এ ধারা মঙ্গলজনক নয় বলে মনে করেন তারা।