সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬ , ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৬:৩৪,২ নভেম্বর ২০২৬
.
রূপগঞ্জে কন টেক্সটাইল থেকে চানপাড়া পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়কে স্থাপন করা ২৯টি অবৈধ স্পিডব্রেকার অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা এসব স্পিডব্রেকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন যানবাহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটগামী যানবাহনের বিকল্প বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতো এই সড়কটি। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক স্পিডব্রেকার স্থাপন করায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। বিশেষ করে প্রাইভেটকারসহ ছোট যানবাহনের নিচের অংশ স্পিডব্রেকারে আটকে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। পাশাপাশি হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে ঘটত ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন স্পিডব্রেকারগুলো অপসারণের উদ্যোগ নেয়। সোমবার দুপুরে অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক এবং সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সড়কটিতে ২৯ থেকে ৩১টি স্পিডব্রেকার স্থাপনের বিষয়টি জানতে পারেন তারা। এসব স্পিডব্রেকারের কোনো বৈধতা নেই। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে যেখানে স্পিডব্রেকার প্রয়োজন, বিশেষ করে মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে, সেখানে নিয়ম মেনে স্পিডব্রেকার স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।
ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু বলেন, এই সড়কে স্পিডব্রেকারের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। দুর্ঘটনা দেখে একে একে অনেকেই অপরিকল্পিতভাবে স্পিডব্রেকার স্থাপন করেন। এতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছিল। স্কুল-মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সামনে পরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্পিডব্রেকার স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
অবৈধ স্পিডব্রেকার অপসারণের উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা। তাদের প্রত্যাশা, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্থানে পরিকল্পিতভাবে গতিরোধক স্থাপন করা হবে।