শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্নে লড়ছে আশামণি

প্রকাশ:১৭:০৫,২২ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্নে লড়ছে আশামণি

.

চার বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারায় আশামণি। ১২ বছর ধরে বাবার স্মৃতি ও কান্না বুকে চেপে রাখা সেই মেয়েটি এখন ১৫ বছর ১০ মাস বয়সী এক কিশোরী। অভাব আর নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বাবার দেখা স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সে। তার লক্ষ্য একদিন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে মায়ের দুঃখ ঘোচানো।

আশামণি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ভোকেশনাল শাখায় পড়াশোনা করছে। ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে প্রকাশ্যে আসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিঃস্ব হওয়া তার পরিবারের এই অদম্য সংগ্রামের গল্প।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় দূরপাল্লার একটি নৈশকোচ রিকশাচালক আয়নাল হকের রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত আয়নালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

স্বামীর মৃত্যুর পর ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকটে পড়েন স্ত্রী শিরিন বেগম। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেলে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেন তিনি। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের আব্দুল আলী পুল এলাকায় চার হাজার টাকা ভাড়ায় থাকেন মা-মেয়ে। সংসার চালাতে ও মেয়ের পড়ার খরচ জোগাতে শিরিন বেগম গৃহকর্মীর কাজ করছেন।

অভাবের কারণে একসময় মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে আশামণির প্রবল ইচ্ছার কারণে তা থেমে থাকেনি। পরে স্থানীয় এক সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান তাকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেন।

বাবার স্মৃতিচারণ করে আশামণি জানায়, তার বাবা তাকে দোকানে নিয়ে চকলেট ও চিপস কিনে দিতেন এবং পুলিশ কর্মকর্তা বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করা এবং পরিবারের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করাই এখন তার মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানায় সে, যাতে আর কোনো সন্তানকে এভাবে বাবা হারাতে না হয়।

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন