শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১১:৩১,২৬ অক্টোবর ২০২৬
.
মাত্র ৩ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত কন্নড় সিনেমা ‘প্রেমাদা উরালি’ বক্স অফিসে ১১৩ কোটির বেশি রুপি আয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। স্বল্প বাজেটের এই ছবিটির সাফল্য পেছনে ফেলেছে ‘কেজিএফ’ ও ‘কান্তারা’র মতো আলোচিত সিনেমাকেও। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই এই অর্জনকে অবিশ্বাস্য বলে অভিহিত করেছেন। গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্পের এই সিনেমাটির কেন্দ্রে রয়েছে এক বাবা ও ছেলের পরিবার। সেখানে এক আধুনিক পুত্রবধূর আগমন এবং সামাজিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে এক নারীর সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গ্রামের মানুষের আবেগ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মিল থাকায় ছবিটি দর্শকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
তবে এই সাফল্যের পথটি একেবারেই সহজ ছিল না। সিনেমাটির চিত্রগ্রাহক রাজকান্ত এসকে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রচার ও মুক্তির জন্য মাত্র ১৫ লাখ রুপির সহায়তার আশায় তারা বড় প্রযোজকদের দ্বারে ঘুরেও কোনো সাড়া পাননি। অথচ ছবিটি সুপারহিট হওয়ার পর সেই প্রযোজকদের অনেকেই এখন পরিচালকের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। স্বল্প বাজেটের কারণে শুটিংয়ের সময়ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় কলাকুশলীদের। শতাধিক সদস্যের জন্য ভালো কোনো হোটেলের ব্যবস্থা করতে না পেরে একটি সাধারণ মিলনায়তনের মেঝেতেই ঘুমাতে হয়েছে তাদের। তবে পরিচালক মনোজ কুমারের নিজ গ্রামে শুটিং হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন।
বড় কোনো প্রচার অনুষ্ঠানের সামর্থ্য না থাকায় নির্মাতারা বেছে নেন ব্যতিক্রমী পথ। কর্ণাটকের অটোরিকশার পেছনে ১০ হাজার রেডিয়াম স্টিকার লাগানোর পাশাপাশি বিয়ের কার্ডের আদলে নিমন্ত্রণপত্র ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। মুক্তির আগে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা শেষ মুহূর্তে শো বাতিল করলেও এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। মুক্তির ২৯তম দিনেও সিনেমাটির সাতশোর বেশি শো চলছে এবং দর্শকের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে নতুন চেয়ার ও কার্পেট বসাতে হচ্ছে। নানা প্রতিকূলতা ও অর্থসংকট কাটিয়ে দর্শকদের ভালোবাসায় অর্জিত এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, বিপুল প্রচার বা বড় আয়োজন ছাড়াই কেবল ভালো গল্পের মাধ্যমে দর্শকের মন জয় করা সম্ভব।