শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৮:৩৬,৯ অক্টোবর ২০২৬
.
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক দুই ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে শ্রীনগর শাখা থেকে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে আলোচিত এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।
নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন হলেন শ্রীনগর শাখার সাময়িক বরখাস্তকৃত ক্যাশ অফিসার মো. জিন্নাহ হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপক ও সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন এবং দুই চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু আহম্মেদ ও আব্দুল হাই।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর থেকে ঘটনার মূল অভিযুক্ত সাময়িক বরখাস্তকৃত ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর টাকা আত্মসাৎ করে তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি চেক বই, দুটি এটিএম কার্ড এবং লকারের চাবি উদ্ধার করা হয়।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের সুবিধার্থে তাঁদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে।
স্থায়ীভাবে শ্রীনগর শাখায় দায়িত্ব পালন করার সুবাদে ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে স্থানীয় গ্রাহকদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন এবং ব্যাংক স্লিপে জমার রসিদও দিতেন। তবে ২২ সেপ্টেম্বর ছুটি ছাড়া তিনি ব্যাংকে অনুপস্থিত থাকলে পুরো বিষয়টি সামনে আসে।
গ্রাহকেরা ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের জমা দেওয়া টাকা মূল হিসাবে জমা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শত শত গ্রাহক ব্যাংক প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যা পরবর্তীতে দুদকে হস্তান্তর করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁরা ব্যাংকের অফিসিয়াল কাউন্টারে লেনদেন করেছেন, তাই এই বিশাল অনিয়মের পেছনে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা ছিল।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী জানান, গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি ভুক্তভোগী গ্রাহক অভিযোগ জানিয়েছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের না হলেও অনুসন্ধানের কাজ চলছে। সংগৃহীত অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।