শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

মুন্সিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াত নেতাকে পিটিয়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

প্রকাশ:১৮:৩৯,৯ অক্টোবর ২০২৬

মুন্সিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াত নেতাকে পিটিয়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

.

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে পূজা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সংসদ সদস্যের সামনেই বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্তুতিমূলক সভায় উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীরকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিবুর রহমান এবং শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়ার উপস্থিতিতেই এ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ঘটনার পর পুলিশ সদস্য ও ইউএনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং জামায়াত নেতাকে নিরাপত্তা দিয়ে সভাকক্ষ থেকে সরিয়ে নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সভার একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান বক্তব্য দেন। এরপর সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহকে বক্তব্যের জন্য আহ্বান জানানো হলে জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান মীর কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন বিএনপির কিছু কর্মী পরিচয় না জানার অজুহাতে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে ইউএনও তাঁকে আবার ফিরিয়ে এনে কথা বলার সুযোগ দেন।

নুরুজ্জামান মীর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি নেতার পূর্ববর্তী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে কয়েকজন কর্মী তাঁকে আওয়ামী লীগের সহযোগী আখ্যা দিয়ে চড়াও হন। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হট্টগোলের মধ্যে এক ব্যক্তি জামায়াত নেতার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন এবং পেছন থেকে কালো শার্ট পরা একজন তাঁকে ঘুষি মারেন।

ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান মীর জানান, প্রশাসনিক আমন্ত্রণেই তিনি সভায় গিয়েছিলেন। কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি মীমাংসা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও জামায়াত নেতা তা অস্বীকার করে জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা আইনি বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন।

অন্যদিকে শ্রীনগর থানার ওসি জুয়েল মিয়া জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল-বোঝাবুঝির কারণে কিছু সময় বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, তবে তা পরে মীমাংসা হয়ে যায়। এই ঘটনায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেননি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান জানান, ওই জামায়াত নেতাকে তারা আগে চিনতেন না। সংসদ সদস্য বক্তব্য দিতে ওঠার পর তাঁর কথা বলতে চাওয়াকে শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঞ্চ থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও মারধরের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন