শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৯:৩৬,৯ অক্টোবর ২০২৬
.
বিনা বেতনে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে রেলের অনিয়ম পুরোপুরি দূর করার ঘোষণা দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব কবীর মিলন।
রেলপথের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে টিকিট কালোবাজারি শতভাগ বন্ধের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক মাসের জন্য বিশেষ ক্ষমতা চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ট্যাগ করে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
মাহবুব কবীর মিলন জানান, এই কাজ করার জন্য তাঁর কোনো পদ-পদবি, আলাদা কার্যালয় বা বেতনের প্রয়োজন নেই। তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সেবা দিতে চান। তবে কাজ পরিচালনার জন্য যাতায়াতের একটি গাড়ি, বিশেষ পুলিশ প্রটেকশন ও কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছেন তিনি।
প্রস্তাবে তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পেলে অবসরপ্রাপ্ত ও চাকুরিরত কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে তিনি মাঠে নামবেন। অবসরপ্রাপ্ত টিকিট এক্সামিনারদের চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে প্রতি কোচে টিকিট এবং যাত্রীর পরিচয় যাচাই করা হবে। যার টিকিট তাকেই ভ্রমণ করতে হবে এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে দ্বিগুণ জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে। টিকিট চেকারদের বডি ওন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটে বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
তিনি আরও জানান, অনিয়মের পক্ষে কোনো দেনদরবার বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে ভ্রমণের ৩ থেকে ৫ দিন আগে টিকিট ইস্যুর ব্যবস্থা করা হবে। এই দুই রুটে সফলতা এলে পরবর্তীতে সারাদেশের ট্রেনেও এই পদ্ধতি চালু করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইন শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সাবেক এই কর্মকর্তা জানান, এক মাসের নির্বাহী আদেশে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে (আরএনবি) অধিদপ্তরের বদলে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেয়া এবং তাদের আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। এছাড়া ট্রেনের পাথর নিক্ষেপ বন্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মাহবুব কবীর মিলন জোর দিয়ে বলেন, কাজ করার সময় তাঁকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দিতে হবে এবং প্রতিটি পদক্ষে সম্পর্কে জনগণকে সরাসরি অবহিত করা হবে। তিনি এতে ব্যর্থ হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে রাজি আছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।