শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৭:২৫,১১ অক্টোবর ২০২৬
.
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সারের ডিলারশিপ না পেয়ে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সাদ্দাম হোসেনকে যুবদলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ও সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাদ্দাম হোসেন জানান, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দরগ্রাম বাজারে সারের ব্যবসা করছে। ২০০৯ সালে বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তারা ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হন। এরপর থেকে অন্যের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। তার বাবাও দরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি সাটুরিয়ার নয়টি ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলে সাদ্দাম হোসেনের পরিবার আবেদন করে। তবে দরগ্রাম ইউনিয়নে মো. রুহুল আমীনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর হতাশ হয়ে সাদ্দাম পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, দলের দুঃসময়ে তার পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছে। আওয়ামী সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা ছিল। বাবার সঙ্গে তাকে এক হাতকড়ায় জেলও খাটতে হয়েছে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ত্যাগের পরও সুযোগ না পেয়ে তিনি হতাশ হয়ে এ সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। উপজেলা কমিটি সেগুলো যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সুবিধাবঞ্চিতদের বিষয়ে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসুম জানান, উপজেলা সার ও বীজ কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। জেলা কমিটি প্রস্তাবগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠালে গত ৬ অক্টোবর নতুন ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে বিএনপির ৯ জন নেতাকর্মী সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন নারী। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের এই ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।