শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

খুলনায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা: থানায় মামলা, অধরা আসামিরা

প্রকাশ:১২:৪২,২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা: থানায় মামলা, অধরা আসামিরা

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যায় মামলা, এখনও গ্রেফতার হয়নি কেউ

খুলনার এক মেসে পূর্বঘোষণা ছাড়া ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. আজমল হোসেন (২২)। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় সলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে এবং নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়তেন। এ ঘটনায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

 

হরিণটানা এলাকার ইসলাম নগরের আকিবের মালিকানাধীন একটি ভবনের মেসে এ নির্মম ঘটনা ঘটে। স্বজন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ওই মেসের নিয়ম অনুযায়ী খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তা জানাতে হয়। তবে গত শুক্রবার রাতে আজমল আগাম না জানিয়েই আরেকজনের খাবার খেয়ে ফেলেন। এই বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অন্য বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে আজমলকে ভবনের পাঁচতলার ছাদে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং তার মাথার চুল কেটে দেয়। সেখান থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে আজমল ফোন করে জানায় যে না বলে খাবার খাওয়া ও চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে মেসের বাসিন্দারা ফোনে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি বিষয়টি পরে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। মেসের রান্নার দায়িত্বে থাকা কর্মী জানান, আগাম তথ্য না দিয়ে খাবার খাওয়ার কথা আজমল স্বীকার করার পর অন্য বাসিন্দারা তাকে ভাত, টাকা, মোবাইল ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে মারধর করে।

 

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান জানান, ঘটনার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন