শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৮:৫৫,৯ অক্টোবর ২০২৬
.
চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী নাভি পিল্লাই। বৈশ্বিক শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ ভূমিকার জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাভি পিল্লাই অসাধারণ সাহস ও নৈতিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে তাঁর বড় অবদান রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পিল্লাই। বর্ণবাদী শাসনামলে আইনজীবী হিসেবে তিনি বর্ণবৈষম্যের শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়ান। সে সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ আন্দোলনকারীদের আইনি সুরক্ষা দেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে সেবা দেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা সংক্রান্ত মামলায় তিনি বিচারকের দায়িত্বে আছেন।
রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালে থাকাকালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আসে তাঁর হাত ধরে। একই সঙ্গে প্রচারণার মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অপরাধ চিহ্নিত করতেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
নোবেল কমিটি উল্লেখ করেছে, সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন। কিন্তু বর্তমানে বিচারক ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা আক্রমণ ও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে নাভি পিল্লাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়কে জবাবদিহির আওতায় এনেছেন এবং নিপীড়িত মানুষের মাঝে আশা জাগিয়েছেন। ন্যায়বিচার ও মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর এই দীর্ঘ কর্মজীবন বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।