শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৫:৩৫,১১ অক্টোবর ২০২৬
.
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। খবর রয়টার্সের।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি কর্তৃপক্ষ এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের চালানো এটি তৃতীয় হামলা।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক এতে প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয়।
গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সৌদি আরবে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি এবং দেশটির সংকেত ব্যবস্থাও কাজ করেনি। এর আগে চলতি সপ্তাহে একই বিমানবন্দরে আগের দুটি হামলায় চারজন নিহত হন এবং রানওয়েতে থাকা একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ৮০ লাখ মানুষের এই শহরের প্রধান বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইয়েমেনের সামরিক অভিযানের পর সৌদি আকাশসীমাকে সামরিক এলাকা ঘোষণা করে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলোকে তা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে হুতিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুতিদের গণমাধ্যম প্রধান দাবি করেন, তারা রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছেন।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক সহায়তা হিসেবে হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের দাবি, তারা হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শত শত হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, হুতিদের দাবি এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞা বলে মন্তব্য করেছেন।