শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশ:১৫:৩২,১১ অক্টোবর ২০২৬
.
ভারতে স্পেসএক্সে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পক্ষে আবারও জোরালো অবস্থান নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। তাঁর মতে, দেশটির বাজারে স্টারলিংক প্রবেশ করলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং এতে সাধারণ গ্রাহকরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সমর্থকদের নানা দাবির তীব্র সমালোচনা করেন।
মাস্ক জানান, বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে আম্বানির মুনাফা কিছুটা কমলেও তাঁর ব্যবসা বন্ধ হবে না। উল্টো গ্রাহকদের কাছে একাধিক বিকল্প তৈরি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্টারলিংকের সেবার দাম বেশি হলে ভারতে কেউ তা কিনবে না। তাই স্পেসএক্সকে অবশ্যই সাশ্রয়ী মূল্যে এই সেবা দিতে হবে।
আম্বানির সমর্থকদের পরস্পরবিরোধী যুক্তির সমালোচনা করে মাস্ক লেখেন, একদিকে তারা দাবি করছেন স্টারলিংক আম্বানির কম দামের সেবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না। আবার অন্যদিকে বলছেন স্টারলিংক এলে অন্যদের টিকে থাকা কঠিন হবে। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি 'অযৌক্তিক ও অতিরঞ্জিত' বলে আখ্যা দেন।
স্টারলিংক নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে শনিবার (১০ অক্টোবর) আম্বানির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনুদানসংক্রান্ত দুটি পুরনো সংবাদের স্ক্রিনশট এক্সে শেয়ার করেন মাস্ক। ২০২২ সালে আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, রিলায়েন্সের অর্থায়নে চালিত একটি প্রতিষ্ঠান ফেসবুকে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রচার বাড়াতে কাজ করেছে। এছাড়া দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিলায়েন্স-সংশ্লিষ্ট কুইক সাপ্লাই নামের একটি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক বন্ডের মাধ্যমে বিজেপি ও শিবসেনাকে কোটি কোটি রুপি অনুদান দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ বিষয়ে রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগেও স্টারলিংক চালুতে বিলম্ব হওয়ার পেছনে আম্বানির হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন মাস্ক। এমনকি ব্যঙ্গ করে আম্বানিকে 'প্রধানমন্ত্রী আম্বানি' বলেও সম্বোধন করেছিলেন তিনি।
এদিকে ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশে প্রভাবশালী গোষ্ঠী বাধা দিচ্ছে—মাস্কের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। গত বৃহস্পতিবার ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশে স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ সব টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য একটি নিরপেক্ষ, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার দাবিকে তারা ভিত্তিহীন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বর্তমানে ইলন মাস্ক ও মুকেশ আম্বানির মধ্যকার এই মতবিরোধ ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভারতে কবে নাগাদ স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা শুরু হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি।