শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের অভিযোগ: ভারতে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রকাশ:১৬:২৭,১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের অভিযোগ: ভারতে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পরীক্ষার হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহারের অভিযোগে শিক্ষকের জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হওয়ার পর ভারতের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) বোম্বের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের নিজ আবাসিক কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মৃত শিক্ষার্থীর নাম সাহিল ওয়াকোড়ে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ছয় মাসে আইআইটির পোওয়াই (Powai) ক্যাম্পাসে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা।

আইআইটি বোম্বে কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে প্রশ্নপত্রের ছবি চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করেছিলেন সাহিল। বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষকের নজরে এলে পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান তাকে ডেকে পাঠান। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, তাকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বহিষ্কার করা হয়নি; বরং বিষয়টি তার শিক্ষাজীবনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে আশ্বস্ত ও পরামর্শ দিয়ে হলে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

তবে কর্তৃপক্ষের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সাহিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই শাস্তির ফলে তাকে আবাসিক হল ছেড়ে ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যেতে হতো এবং চার বছরের প্রকৌশল কোর্স সম্পন্ন করতে পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় লাগত। এই চরম শাস্তির মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই সাহিল আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

সাহিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার রাতেই পোওয়াই ক্যাম্পাসে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট জবাবদিহি ও ঘটনার প্রকৃত তদন্তের স্বচ্ছতা দাবি করেন। আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শুধু এই বছরেই ক্যাম্পাসে চারটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে গত দুই মাসেই দুটি। আমরা প্রশাসনের এমন নির্মম নীতি ও তথ্যের অস্পষ্টতার বিরুদ্ধে জবাবদিহি চাই।"

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পোওয়াই থানার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দত্তাত্রেয় নালাওয়াড়ে জানান, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে আইআইটি প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এক শোকবার্তায় আইআইটি বোম্বে কর্তৃপক্ষ সাহিলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং সহপাঠী ও ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

https://www.facebook.com/hellonarayanganjbd/

আরও পড়ুন